গত ১ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যান্ডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে স্পেসএক্সের রকেটে করে কিরগিজস্তান একটি ন্যানোস্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করেছে বলে দাবি করা হয়। দেশটির সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, পাঁচ কেজি ওজনের এই স্যাটেলাইটটি স্থানীয় দুটি প্রতিষ্ঠান কিরগিজ আসমান ও কিরগিজ ইলেকট্রনিক্স তৈরি করেছে এবং এর পেছনে ছিলেন ১০ জন দেশীয় প্রকৌশলী।
সরকারের দাবি, এই স্যাটেলাইটটি কৃষি, পরিবেশ ও কৌশলগত অগ্রাধিকার খাতে ১৫ বছর ধরে তথ্য সরবরাহ করবে। ২৪ সেপ্টেম্বর পানি সম্পদ, কৃষি ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, স্যাটেলাইটের তথ্য ফসলের অবস্থা পর্যবেক্ষণ, খরা সনাক্তকরণ এবং হিমবাহ পর্যবেক্ষণে সহায়তা করবে।
উৎক্ষেপণের দিন ক্যালিফোর্নিয়া থেকে কিরগিজ প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভ বলেছেন, আগে অন্য দেশের কাছে তথ্যের জন্য অর্থ দিতে হতো। এখন নিজেদের স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রতিটি জমি বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে। তিনি এটিকে জাতীয় স্বনির্ভরতার অর্জন বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, 'আমাদের আগে নিজের স্যাটেলাইট ছিল না... এখন আমরা আর অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল নই। আমরা বিশকেক থেকে ১০০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করব।'
তবে উৎক্ষেপণের একদিন পর ২ অক্টোবর থেকে স্যাটেলাইটটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) সাথে যৌথ প্রকল্প বলে খবর প্রকাশিত হতে থাকে। তিন দিন পর কিরগিজ সংবাদমাধ্যম জানায়, নতুন চালু করা স্পেস মনিটরিং সেন্টার 'আলতাইর' নামের স্যাটেলাইটের তথ্য পাবে, যা ইউএই পরিচালিত এবং আবুধাবি মেরিটাইম একাডেমি সরবরাহ করবে।
এতে জাপারভের 'অন্য দেশের উপর নির্ভরশীল নয়' দাবি প্রশ্নবিদ্ধ হয়। কারণ রুশ প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ইউএই স্যাটেলাইটটি পরিচালনা করবে এবং কিরগিজস্তান শুধু তথ্য ব্যবহারের সুযোগ পাবে। উপসাগরীয় সংবাদমাধ্যমগুলো আলতাইরকে 'ইউএই প্রকৌশলীদের তৈরি প্রথম স্যাটেলাইট' বলে উল্লেখ করছে, যেখানে কিরগিজস্তানের ভূমিকার কথা বলা হয়নি।
এ নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কাকতুস মিডিয়া ধারণা করেছে, ১ অক্টোবর সম্ভবত দুটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়—একটি ইউএই নির্মিত এবং অন্যটি রুশ সহায়তায় তৈরি। ট্যান্ডির মিডিয়ার প্রতিবেদনে দিমা বালাকিরেভ নামের এক ব্যক্তির থ্রেডস পোস্টের উল্লেখ করা হয়, যিনি দাবি করেন তিনি প্রকল্পে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তার পোস্টে 'মেড ইন ইউএই' লেখা একটি বড় স্যাটেলাইটের ছবি দেখা যায়।
বালাকিরেভের মতে, বড় স্যাটেলাইটটি ইউএইর সাথে যৌথ প্রকল্প, সম্পূর্ণভাবে আবুধাবি সরকার ও অনুদানে অর্থায়িত। এটি একটি আর্থ রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট, যা দিয়েই জাপারভ কিরগিজস্তানের জমি পর্যবেক্ষণের কথা বলেছিলেন। তিনি দাবি করেন, জাতীয় সংবাদমাধ্যম দুটি ভিন্ন প্রকল্পকে গুলিয়ে ফেলেছে—একটি আবুধাবিতে তৈরি এবং অন্যটি কিরগিজ ইলেকট্রনিক্সের দল তৈরির প্রকল্প।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আইদারবেক রায়েভের মতে, কিরগিজ ন্যানোস্যাটেলাইটটি হয়তো উৎক্ষেপণই করা হয়নি, যার অর্থ জাতীয় প্রযুক্তিগত অর্জনের দাবি অতিরঞ্জিত। সরকার এই বিষয়ে খুব কম মন্তব্য করেছে। তবে জাপারভ ১ অক্টোবর বলেছেন, দেশে ও মধ্য এশিয়ায় স্থিতিশীলতা থাকলে আগামী পাঁচ থেকে দশ বছরের মধ্যে একটি টেলিকমিউনিকেশন স্যাটেলাইটও উৎক্ষেপণ করা হবে।