মিয়ানমারে প্রতারণা কেন্দ্রের নেটওয়ার্ক পরিচালনার দায়ে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় একটি আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। মঙ্গলবার কুয়ানঝো ইন্টারমিডিয়েট পিপলস কোর্ট জানিয়েছে, ফুজিয়ান প্রদেশের এই উচ্চ আদালত ওয়েই হুয়ারেন, চেন দাওয়েই এবং লিয়াও জিংফাংকে 'ওয়েই পরিবার অপরাধী চক্র'-এর সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে এই সাজা দিয়েছে।
আদালতের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চক্রটি মাদক পাচার, সংগঠিত পতিতাবৃত্তি, অবৈধ ক্যাসিনো পরিচালনা, টেলিযোগাযোগ জালিয়াতি এবং কমপক্ষে দুই চীনা নাগরিকের হত্যার মতো অপরাধে জড়িত ছিল। ওয়েইকে চক্রের নেতাদের একজন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং হত্যাসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া চক্রের আরও তিন সদস্যকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে এবং ৫৫ জনকে তিন বছর তিন মাস থেকে ২৪ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, চক্রটির কার্যক্রম থেকে ১.৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ আয় হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা সিসিটিভি মঙ্গলবার জানিয়েছে, চক্রটি ১৪টি 'বৃহৎ পরিসরের' ক্যাম্প পরিচালনা করত এবং উচ্চ বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে হাজার হাজার চীনা নাগরিককে মিয়ানমারে নিয়ে যেত।
এই রায় এমন সময় এলো যখন বেইজিং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আন্তঃসীমান্ত প্রতারণা নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান জোরদার করেছে, যেখানে স্ক্যাম পার্কগুলো একটি শিল্প-পর্যায়ের ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জুলাই মাসে সতর্ক করে বলেছিল, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতারণা কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৩০০,০০০ শ্রমিক কাজ করে এবং তারা পশ্চিমা দেশের মানুষদের, বিশেষ করে বয়স্কদের, অনলাইন প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
অনলাইন প্রতারণায় জড়িত অনেকেই পাচারের শিকার বিদেশি নাগরিক, যাদের কারাগারের মতো পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করা হয়।