ভ্যাটিকান সিটিতে বুধবার পোপমোবাইল প্রদর্শনীর প্রিভিউ উন্মোচন করা হয়েছে। ‘এ সেঞ্চুরি অফ দ্য পোপমোবাইল’ নামের এই প্রদর্শনীতে ১৯৩০ সাল থেকে পোপদের ব্যবহৃত আটটি মার্সিডিজ-বেঞ্জ গাড়ি স্থান পেয়েছে। প্রদর্শনীটি বৃহস্পতিবার থেকে সাধারণ জনগণের জন্য উন্মুক্ত হবে।
ভ্যাটিকান মিউজিয়ামের historial collections বিভাগের কিউরেটর সান্দ্রো বারবাগালো জানান, প্রদর্শনীতে থাকা সবচেয়ে পুরোনো গাড়িটি ১৯৩০ সালের ২৩ মে পোপ একাদশ পায়াসকে উপহার দেওয়া হয়। মার্সিডিজ-বেঞ্জ নুরবুর্গ ৪৬০ মডেলের এই গাড়িটিতে সিল্ক ব্রোকেডে মোড়া একটি বিলাসবহুল আরামকেদারা এবং উন্নত কাঠ ও ধাতুর কাজ ছিল।
বারবাগালো আরও বলেন, “গাড়িটি বিশেষভাবে পোপের ব্যবহারের জন্য তৈরি, ডিজাইন ও প্রস্তুত করা হয়েছিল। এটি দেখলেই বোঝা যায় কীভাবে একটি সাধারণ গাড়ি থেকে এটি অনন্য হয়ে উঠেছে।” তিনি বলেন, “এটি স্পষ্ট যে পরবর্তী সব গাড়িও পোপকে দেখার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল, তবে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং আরামের সঙ্গে।”
প্রদর্শনীতে থাকা পরবর্তী সংস্করণের পোপমোবাইলগুলো পোপের ভ্রমণের পরিবর্তিত প্রয়োজনীয়তার প্রতিফলন। ১৯৬০ সালে পোপ ত্রয়োদশ জনকে ৩০০ ডি ল্যান্ডলেট মডেলের গাড়ি উপহার দেওয়া হয়, যার পেছনের জানালাগুলো খুলে ফেলা যেত যাতে তিনি পথে মানুষের সঙ্গে হাত মেলাতে পারেন।
১৯৮০ সালে পোপ দ্বিতীয় জন পল-এর জার্মানি সফরের জন্য মার্সিডিজ-বেঞ্জ ২৩০ জি মডেলের গাড়ি তৈরি করে, যার পেছনে একটি উঁচু স্বচ্ছ গম্বুজ ছিল। এটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ ভক্তের জন্য পোপকে স্পষ্টভাবে দেখার সুযোগ করে দেয়।
এদিকে, গাড়িপ্রেমী পোপ লিও চতুর্দশ মার্সিডিজ-বেঞ্জের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পবিত্র ধর্মাসনের সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্বের জন্য ধন্যবাদ জানান। শিকাগোতে জন্মগ্রহণকারী এই পোপ বলেন, “কয়েক দশক ধরে পোপমোবাইল কেবল একটি পরিবহন মাধ্যম থেকে যোগাযোগের একটি উপকরণে পরিণত হয়েছে, যা পোপকে ধর্মযাজকীয় সফর ও জনসমাবেশে ভক্তদের নিকটবর্তী হতে সাহায্য করে।”
তিনি আরও বলেন, “এইভাবে, আপনার কাজ গির্জার মিশনকে সহজ করেছে—মানুষের কাছে পৌঁছানো এবং বিশ্বের কাছে বিশ্বাস, আশা ও দানের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।”
পোপ লিও মার্সিডিজ-বেঞ্জ নির্বাহীদের উদ্দেশে বলেন, “এই চেতনায়, আমি আপনাদেরকে মানব মর্যাদা, সৃষ্টির যত্ন এবং সাধারণ ভালোর সেবায় প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন অব্যাহত রাখতে উৎসাহিত করছি।”