ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে মাত্র ১৭৩ রানে গুটিয়ে যায় টাইগাররা। শুরুতে দুর্দান্ত খেললেও শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ।
বোলিংয়ে শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। তাসকিন আহমেদের আগুনঝরা বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ে ৭ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে করে মাত্র ২৪ রান। তাসকিনের বোলিং ফিগার ছিল ৪-১৩-০-৩। কিন্তু মাঝের ওভারগুলোতে ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের দেড় শ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় জিম্বাবুয়ে এবং ২৭১ রান সংগ্রহ করে।
ব্যাটিংয়ে নামার পর তানজিদ হাসান ও সৌম্য সরকারের উদ্বোধনী জুটিতে প্রথম ৬ ওভারে ৪৭ রান আসে। কিন্তু এরপর মিডল অর্ডারে ধস নামলে বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা হারায়। তাওহিদ হৃদয়, নাজমুল হোসেন ও মোসাদ্দেক হোসেন—তিনজনই এলবিডব্লিউ হয়ে সাজঘরে ফেরেন। তানজিদ জীবন পেয়েও পরের বলে ক্যাচ দেন এবং সৌম্য সরকার স্লিপে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদের ২৬ বলে ৩৬ রানের জুটি কেবল হারের ব্যবধান কমায়।
বোলিংয়ে মাঝের ওভারগুলোতে বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়। তাসকিনের ৬ ওভারের স্পেলের পর জিম্বাবুয়ে স্বস্তি পায়। মোস্তাফিজুর রহমান ও শরীফুল ইসলাম উইকেট নিতে পারেননি, স্পিনার মোসাদ্দেক ও রিশাদও উইকেটশূন্য থাকেন। রিশাদ ৯ ওভারে ৬৬ রান দিয়ে সবচেয়ে খরুচে বোলার হন।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসে ৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে টেনে তোলেন ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেলর। দুজনেই স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যাটিং করেন এবং রানের গতি ধরে রাখেন। তাঁদের ১৭৬ বলে ১৫০ রানের জুটিটি ভাঙেন সাইফ হাসান, যিনি সপ্তম বোলার হিসেবে এসে পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট নেন। তিনি টেলরকে (৮১) এবং সিকান্দার রাজাকে (৪) ফেরান। আরভিন ১০৬ বলে ৯৩ রান করে শরীফুলের শিকার হন।
শেষ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের রানের কাছাকাছিও যেতে পারেনি বাংলাদেশ। ২১ অক্টোবর ত্রিদেশীয় সিরিজের শেষ ম্যাচে আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা। ফাইনালে উঠতে সেই ম্যাচে জয়ের পাশাপাশি আরও অনেক সমীকরণ মেলাতে হবে।