Deleted
প্রকাশ : Oct 11, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

সৌদি হামলায় বগুড়ার শাহেদ নিহত, স্ত্রীর অপেক্ষা স্বামীর মরদেহের

‘রিয়াদে নেমেছি, জেদ্দায় পৌঁছে ফোন দেব।’ স্বামী শাহেদ আহম্মেদের সঙ্গে মুঠোফোনে এটাই ছিল কাকলি বেগমের শেষ কথা। এর পর থেকে ফোনের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। কিন্তু স্বামীর কণ্ঠ আর শুনতে পারেননি। গতকাল শনিবার বিকেলে ফোনে এল স্বামীর মৃত্যুর খবর।

সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় শাহেদের নিহত হওয়ার খবর শোনার পর থেকে কান্না থামছে না কাকলির। দুই ছেলেকে নিয়ে এখন তাঁর অপেক্ষা—কবে দেশে ফিরবে স্বামীর মরদেহ।

নিহত শাহেদ আহম্মেদের (৩২) বাড়ি বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা গ্রামে। তাঁর বাবা রফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। বাংলাদেশ সময় গতকাল শনিবার রাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান–সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলা চালায়। এতে শাহেদসহ দুই বাংলাদেশি নিহত হন। নিহত অন্যজন হলেন কুমিল্লার নাঙ্গোলকোট উপজেলার বাসিন্দা নাসরুল্লাহ বদরপুরি।

শাহেদের মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর থেকে তাঁর গ্রামের বাড়িতে মাতম চলছে। সন্তানের মৃত্যুসংবাদে ভেঙে পড়েছেন মা শাহেরা বেগম। ছেলের লাশ কবে দেশে আসবে, সেই প্রশ্ন করছেন সবাইকে। স্বজনদের সান্ত্বনাও যেন তাঁর বুকের হাহাকার কমাতে পারছে না।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুই ভাই–বোনের মধ্যে শাহেদ ছোট। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। বাবা সৌদি আরবে থাকেন। দুই বছর আগে শাহেদও সেখানে যান। এক মাস আগে ছুটিতে দেশে এসেছিলেন শাহেদ। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে ছুটি শেষে গত শুক্রবার ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। পরদিন ১০ অক্টোবর তাঁর সৌদি আরবে যাওয়ার ফ্লাইট ছিল।

কাকলি বেগমের সঙ্গে শাহেদের শেষ কথা হয় রিয়াদে পৌঁছানোর পর। শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে স্বামীর সঙ্গে শেষবার কথা বলার স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, ‘শাহেদ ফোন করে বলেছিল, রিয়াদে নেমেছি, জেদ্দায় পৌঁছে ফোন দেব। এরপর আর ফোন করেনি। আজ বিকেলে জানতে পারি, হামলায় সে মারা গেছে।’

স্বামীর মৃত্যুর খবরে কাকলির যেন সবকিছু থমকে গেছে। যে মানুষটি এক মাস আগে ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে বিদায় নিয়েছিলেন, তাঁর আর জীবিত ফিরে আসা হবে না—এ কথা মেনে নিতে পারছেন না তিনি। এখন স্বামীর লাশ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটছে তাঁর। এ দম্পতির দুই ছেলে—কাওছার ও আবদুল্লাহ। তাদের বয়স যথাক্রমে ১১ ও ৬ বছর।

শাহেদের চাচাতো ভাই মাসুম রানা বলেন, শাহেদের বাবা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে থাকেন। বাবার কাছে গিয়ে দুই বছর আগে শাহেদও সৌদি আরবে পাড়ি জমান। পরিবারের সদস্যরা এখন তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন।

সরকারি উদ্যোগে শাহেদের মরদেহ দেশে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেন শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান। তিনি বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

নতুন বছরের শুরুতেই যেসব ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

1

প্রতি তিন মাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অগ্রগতি জানতে চান প্রধানম

2

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ধোঁয়াশা: সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ইন্দ

3

সৌদিগামী ১০৩ ফ্লাইট ব্যাহত, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার ৭৭৯ যাত্রী

4

সারের ডিলারশিপে দুর্নীতির অভিযোগ, জামায়াতের ছয় দাবি

5

হুতির ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ব্যর্থ সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্

6

গেইল-লুইসকে ছাড়িয়ে শাই হোপের রেকর্ড, ভারতের বিপক্ষে জয় ক্যার

7

সাবেক তথ্যমন্ত্রীর এপিএস রেজাউল করিম গ্রেফতার

8

বুড়িগণ্ডকীর বন্যায় বাংলাদেশের সরাসরি ঝুঁকি নেই: শাশ্বত সান

9

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পারিবারিক বিরোধে নিহত ১, আটক ১

10

রেফারিকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যে ২৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা গুনল

11

যুক্তরাজ্যের বিমানঘাঁটি হামলার পরিকল্পনার জন্য ইরানকে দায়ী

12

এনসিপির শীর্ষ চার পদ বিলুপ্ত, পুনর্গঠনে আসছে বড় পরিবর্তন

13

পাঠকের ছবি: ১৫ অক্টোবর ২০২৬

14

মার্কিন খামারিরা বেড়ে চলা খরচ ও ট্রাম্পের প্রতি আনুগত্য নিয়ে

15

বাল্যবিবাহ কীভাবে মেয়েদের ভবিষ্যৎ ও অধিকার কেড়ে নেয়

16

নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড লাইভ সম্প্রচারের পরিকল্পনা রক্ষা কর

17

বুবলীকে ‘পিনিক’–এ যেমন দেখা যাবে

18

আরও ১৪ সাংবাদিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব

19

গাজীপুরে লে-অফের প্রতিবাদে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ

20