লালন শাহর ‘মানবধর্ম’ কবিতায় মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে। কবি জাত-ধর্মের বিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষকে ভালোবাসার কথা বলেছেন। তাঁর কাছে মানুষ পরিচয়ই শ্রেষ্ঠ।
মাদার তেরেসা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি জাত-ধর্মের ভেদাভেদ ভুলে মানবপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে অসহায় মানুষের সেবা করেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের স্থান সবার ওপরে।
‘মানবধর্ম’ কবিতায় লালন শাহ জাতের রূপ দেখেননি। সংকীর্ণ মানসিকতার কারণে লোকে জাতপাত নিয়ে গৌরব করে। প্রাচীনকাল থেকেই সমাজে জাতপাত নিয়ে বিভেদ বিদ্যমান। উচ্চবিত্তেরা নিজেদের শ্রেষ্ঠ মনে করে এবং নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের জানান দিতে জাতপাত নিয়ে গর্ব করে।
মানবতাকে আদর্শ হিসেবে ভাবার দিক থেকে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘মানবধর্ম’ কবিতাটি সাদৃশ্যপূর্ণ। কবি জাত-ধর্মের বিভেদের ঊর্ধ্বে মানবতার জয়গান গেয়েছেন। সম্প্রদায়গত পরিচয়ের চেয়ে মানুষ পরিচয়ই শ্রেষ্ঠ। উদ্দীপকে মাদার তেরেসা মানবসেবাকেই জীবনের ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তিনিও মানবতাকে সর্বাগ্রে স্থান দিয়েছিলেন। একইভাবে কবি লালন শাহও মানবতাবাদী হওয়ার কারণে জাত-ধর্মের বিভাজনে বিশ্বাস করতেন না। তাঁর কাছে দেশ-কাল-পাত্র ও ধর্মের চেয়ে মানবধর্মই সর্বশ্রেষ্ঠ।
ধর্ম ও জাতিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে মানবতাকে স্থান দেওয়ার দিক থেকে উদ্দীপক ও ‘মানবধর্ম’ কবিতায় একই সুর ধ্বনিত হয়েছে। মানবধর্ম তথা মনুষ্যত্ববোধেই মানুষের প্রকৃত পরিচয় নিহিত। উদ্দীপকে মাদার তেরেসা অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন এবং ধর্ম-বর্ণের ভেদাভেদ ভুলে গরিব-দুঃখী মানুষের সেবায় জীবন ব্যয় করেছেন। আলোচ্য কবিতার কবিও মানবতাবাদেই আস্থাশীল। তিনি মনে করেন, পাত্রভেদে জলকে ভিন্ন নামে আখ্যায়িত করলেও তা জলই থাকে; তেমনই জাতি বা ধর্ম পরিচয় মানুষের মানবিক সত্তাকে পৃথক করতে পারে না। তাই ধর্মীয় ও জাতিগত পরিচয়ের নিরিখে মানুষে মানুষে বিভেদ করা উচিত নয়। উভয় ক্ষেত্রেই মানবতাকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়েছে।