ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও কূটনৈতিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে না। বুধবার ঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন’-এ আলোচনায় এ বিষয়ে মত প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন ভারতের ‘মূল্যবান সম্পদ’ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করেছেন, ফলে ভারত তাঁকে হস্তান্তর করতে চাইবে না।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ক্রিস্টিন ফেয়ার বলেন, ‘হাসিনা যদি ফিরে আসেন এবং দেশে মারা যান, তবে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তা সমস্যার তৈরি করতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে বলতে হয় ভারত চাইবে যে তিনি ভারত ছেড়ে চলে যান। কিন্তু কোনো দেশ তাঁকে নিতে রাজি হবে না। এই অবস্থায় ভারত তাঁকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করবে না।’
ফেয়ার ব্যাখ্যা করেন, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ক্ষেত্রে প্রত্যর্পণ চুক্তি (এক্সট্রাডিশন ট্রিটি) প্রযোজ্য হয় না। ফলে হাসিনাকে হস্তান্তরের জন্য আলাদা আইনি প্রক্রিয়া চালাতে হবে। তবে বাংলাদেশের জন্য তিনি ভারতে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করলে সেটাই ‘ভালো’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত বিরোধ ও তালেবান প্রসঙ্গে ফেয়ার বলেন, ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে ঐতিহাসিক সমস্যা রয়েছে। পাকিস্তান তালেবানদের সমর্থন করেছিল এই আশায় যে তারা সীমান্ত মেনে নেবে, কিন্তু তালেবানরা তা করেনি। আফগান তালেবান পাকিস্তানি তালেবানদের (টিটিপি) নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে, যা প্রধান ইস্যু।
বেলুচিস্তান সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি ইমরান খানের আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বালুচরা কখনোই পাকিস্তানে যোগ দিতে চায়নি। মোশাররফের আমলে চীনা উন্নয়ন ও কম বরাদ্দ থেকে এই সংকটের সূত্রপাত।
ইমরান খানের আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনীর ভূমিকা প্রসঙ্গে ফেয়ার বলেন, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এত ক্ষমতা একত্রীকরণ করেছেন যে তিনি পরিস্থিতি সামলে নিতে পারবেন। ইমরান খান জেল থেকে বেরোতে পারবেন না, একমাত্র নির্বাসনে যেতে রাজি হলেই তা সম্ভব।