Deleted
প্রকাশ : Oct 10, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

খাইবার পাখতুনখাওয়া নিয়ে শাহবাজ-জারদারির বৈঠক, সমঝোতার চেষ্টা

পাকিস্তানের সার্বিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। শনিবার প্রেসিডেন্ট ভবন আইওয়ান-ই-সদরে এ বৈঠক হয়। প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে সন্ত্রাসবাদ এবং পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদমুখী লংমার্চ নিয়ে কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারের মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন চলছে। এ নিয়ে প্রদেশটিতে কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন জারির হুমকিও এসেছে। এর মধ্যেই দুই নেতা আলোচনায় বসেন।

বৈঠকে সরকার ও পিপিপির জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার, রাজনৈতিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি, অ্যাটর্নি জেনারেল মনসুর উসমান আওয়ান, আইন ও বিচারমন্ত্রী আজম নাজির তারার, সিনেটর শেরি রেহমান প্রমুখ।

বৈঠকে মঙ্গলবার জাতীয় পরিষদ ও সিনেটের আলাদা অধিবেশন ডাকার বিষয়ে একমত হওয়া গেছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-ফজলের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান টেলিফোনে কথা বলেন। কেন্দ্রীয় সরকার ও খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকারের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর উপায় নিয়ে তাঁরা আলোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তথ্যমতে, ওমরাহ পালন করায় শাহবাজ মাওলানা ফজলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান। তিনি ফজলুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানান। জেইউআই-এফের প্রধান আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন। শিগগিরই এ বৈঠক হওয়ার কথা।

জেইউআই-এফের মিডিয়া সেল থেকে দলটির মুখপাত্র আসলাম গৌরির একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে তিনি বলেন, দুই নেতা চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্র ও খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকারের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা করেছেন।

গৌরি আরও বলেন, ফজলুর রহমান পিটিআইয়ের নেতৃত্বের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তিনি পিটিআই নেতৃত্বকে আস্থায় নিয়েছেন।

রাষ্ট্রায়ত্ত রেডিও পাকিস্তান জানায়, এর আগে আজ কাশ্মীর ও গিলগিট-বালতিস্তানবিষয়ক মন্ত্রী আমির মুকাম ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার গভর্নর ফয়সাল করিম কুন্ডি পেশোয়ারের গভর্নর হাউসে বৈঠক করেন।

বৈঠকে তাঁরা খাইবার পাখতুনখাওয়ার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চলমান লংমার্চ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। খাইবার পাখতুনখাওয়ার জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দুই নেতা বলেন, জনগণ ‘বিশৃঙ্খলার রাজনীতি’ প্রত্যাখ্যান করেছে।

বৈঠক শেষে একটি যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, প্রদেশটিতে শান্তি নিশ্চিত করতে এবং জনকল্যাণ ও উন্নয়ন এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় সরকার সম্ভাব্য সব ব্যবস্থা নেবে।

সরকার ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে আবার আলোচনা শুরুর চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে শনিবার পিটিআইয়ের লংমার্চ চারসাদ্দা থেকে মারদানে যাওয়ার কথা। এমন সময়েই এসব যোগাযোগ হলো।

আলোচনা আবার শুরুর চেষ্টার মধ্যে সম্ভাব্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সামনে এসেছেন ফজলুর রহমান। পিটিআইয়ের খাইবার পাখতুনখাওয়া শাখার সভাপতি জুনাইদ আকবর বলেন, সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য দলটি জেইউআই-এফের প্রধানকে দায়িত্ব দিয়েছে। আর পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলী খান নিঃশর্ত আলোচনার আহ্বান জানান। তিনি দুই পক্ষকে সামনে এগোনোর পথ খুঁজে বের করার আহ্বান জানান।

এর আগে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে দুই দফা আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। দুই পক্ষের মতভেদ ছিল দুটি বিষয়ে। একটি হলো কারাবন্দী প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার পিটিআইয়ের দাবি। অন্যটি হলো সন্ত্রাসবিরোধী নীতি নির্ধারণে খাইবার পাখতুনখাওয়া সরকারের ভূমিকা। পিটিআই বলেছে, কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকারকে নিয়ে যৌথ কৌশল দরকার। অন্যদিকে সরকারের অবস্থান ছিল, প্রাদেশিক প্রশাসনের সহযোগিতা অপরিহার্য।

লংমার্চ এগোনোর মধ্যেই আলোচনা আবার শুরুর চেষ্টা চলছে। পিটিআইয়ের নেতারা নতুন করে আলোচনার জন্য চাপ দিচ্ছেন। আর সরকারের নেতারা দলটিকে বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে ভাবার আহ্বান জানাচ্ছেন।

সমঝোতার প্রাথমিক চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ৪ অক্টোবর লংমার্চ শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বহরটি চারসাদ্দা ও মারদান হয়ে সোয়াবি পৌঁছাবে। পিটিআই জানিয়েছে, সোয়াবি পৌঁছানোর পর তারা পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

এই রাজনৈতিক অচলাবস্থা খাইবার পাখতুনখাওয়ায় সম্ভাব্য জরুরি পদক্ষেপ এবং প্রদেশটির প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিবর্তন নিয়ে জল্পনাও উসকে দিয়েছে। সূত্রের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, ১২টি জেলার জন্য আলাদা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনাধীন।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রাদেশিক সরকারের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় কেন্দ্রীয় সরকার গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থাসহ বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছে।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ, শাহজালালে আটকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী

1

টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ২০ ইউনিট ও সেনাবাহি

2

সেলমা ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে হামলার নতুন অভিযোগ, জামিন মঞ্জুর

3

হোয়াইট হাউসের নতুন প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়ার আইনী যো

4

ওপেনএআই অফিসে গোপন রেকর্ডিং ডিভাইস স্থাপনের অভিযোগ সৌদি নাগর

5

ইরাসমাস মুন্ডাস প্রোগ্রাম বাছাই: নিজের পেশাগত যাত্রার সঙ্গে

6

শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে যুবক আটক

7

প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছিলেন এই তারকারাও

8

বিগ ব্যাশের নতুন মৌসুমে হোবার্ট হারিকেন্সে ফিরলেন রিশাদ হোসে

9

বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান কোনো ভেদাভেদ নেই: স

10

নতুন বছরের শুরুতেই যেসব ফোনে বন্ধ হচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ

11

আইওটি কী ও কীভাবে কাজ করে

12

গ্যালারি চিত্রকে দেবী দুর্গার ৬০টি ভিন্ন রূপ

13

শৈশবের লাজুক বালক থেকে রাজপথের সেনাপতি রিজভী

14

সংবিধানে ফিরছে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’

15

লিপ সেকেন্ড বিলোপের সিদ্ধান্ত নিতে বিশ্বের সময়রক্ষকদের বৈঠক

16

হরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ডুবল দুই জাহাজ

17

দুই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও সাবেক সেনাদের প্ল্যাটফর্ম: দেবাশীষ-

18

অপরিকল্পিত পর্যটনে বিপন্ন পাহাড়, ইকো-ট্যুরিজমের বিকল্প নেই

19

নেপালে নতুন বন্যায় ঘরবাড়ি ও সেতু ভেসে গেছে, নিখোঁজ পাঁচ

20