জার্মানিতে দক্ষ কর্মীদের প্রবেশ ও দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হওয়ার দুটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো অপরচুনিটি কার্ড ও ইইউ ব্লু কার্ড। সম্প্রতি দুবাইয়ের দুসিত থানি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘গালফ নিউজ লেভেলআপ’ সম্মেলনের এক ফায়ারসাইড চ্যাটে এ তথ্য জানান ওয়াই-অ্যাক্সিসের ডিরেক্টর ক্লিন্ট খান।
অপরচুনিটি কার্ড হলো একটি রেসিডেন্স পারমিট, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের নাগরিকরা আগে থেকে চাকরির চুক্তি ছাড়াই সর্বোচ্চ ১২ মাস জার্মানিতে থেকে চাকরি খুঁজতে পারেন। ক্লিন্ট খানের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্ড নিয়ে জার্মানিতে গিয়ে শুরুতে খণ্ডকালীন কাজ করার সুযোগ রয়েছে। পরে উপযুক্ত পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়া এবং নিয়োগকর্তার প্রয়োজনীয় স্পন্সরশিপ পেলে নির্দিষ্ট ওয়ার্ক পারমিটে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
অপরচুনিটি কার্ডের জন্য আবেদনকারীরা মূলত দুইভাবে যোগ্য হতে পারেন। প্রথমত, জার্মানিতে স্বীকৃত বিদেশি শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা থাকলে। দ্বিতীয়ত, পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে। পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থায় আবেদনকারীর স্বীকৃত একাডেমিক বা ভোকেশনাল ডিগ্রি, নিজের জীবনযাপনের খরচ বহনের মতো পর্যাপ্ত অর্থ এবং নির্ধারিত সংখ্যক পয়েন্ট থাকা প্রয়োজন। পেশাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বয়স ও ভাষাগত দক্ষতাসহ বিভিন্ন বিষয়ের ভিত্তিতে পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়।
জার্মানিতে চাকরি নিশ্চিত করতে পারা উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হলো ইইউ ব্লু কার্ড। নির্দিষ্ট বেতনসীমা পূরণ করে এমন যোগ্য চাকরির অফার থাকলে উচ্চশিক্ষিত বিদেশি কর্মীরা এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। ক্লিন্ট খান বলেন, উপযুক্ত চাকরি নিশ্চিত করতে পারা পেশাজীবীদের জন্য ইইউ ব্লু কার্ড জার্মানিতে কাজের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী হওয়ার একটি পথ তৈরি করে।
নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ব্লু কার্ডধারীরা ২৭ মাস পর জার্মানিতে স্থায়ী বসবাসের অনুমতির জন্য যোগ্য হতে পারেন। তবে জার্মান ভাষায় বি-১ স্তরের দক্ষতা থাকলে এই সময় কমে ২১ মাস হতে পারে। অর্থাৎ, আগে চাকরি নিশ্চিত করতে পারা উচ্চশিক্ষিত দক্ষ কর্মীদের জন্য ইইউ ব্লু কার্ড যেমন জার্মানিতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করছে, তেমনি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তুলনামূলক দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথও খুলে দিচ্ছে।