নরওয়ের উত্তরাঞ্চলীয় ফিনমার্ক কাউন্টির নাইডেন ফিয়র্ডের তীরে বসবাসকারী সামি জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তের ওপারে রাশিয়ার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক বজায় রেখেছে। তবে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর হওয়ায় সেই সম্পর্কে ভাটা পড়েছে। নরওয়ে-রাশিয়া সীমান্তে অবস্থিত শহর কিরকেনেস এখন গুপ্তচরবৃত্তির যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে একাধিক রুশ গোয়েন্দা কর্মী পর্যটক ও জেলের ছদ্মবেশে ধরা পড়েছে।
নাইডেন ফিয়র্ডের জেলে নিলস বোইন জানান, তার রাশিয়ায় বন্ধু রয়েছে এবং তারা আগে প্রায়ই কেনাকাটা ও সাপ্তাহিক ছুটি কাটাতে রাশিয়া যেতেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারি ২০২২-এ ভ্লাদিমির পুতিনের ইউক্রেন আক্রমণের পর সেই যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে। বোইন বলেন, "স্থানীয় এক ব্যক্তিকে রাশিয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাই মানুষ সীমান্ত পার হতে ভয় পাচ্ছে।"
জুন মাসে কিরকেনেসের এক ব্যবসায়ীকে রাশিয়ায় দুই মাসের জন্য আটক রাখা হয় অস্ত্র বা গোলাবারুদ রাখার অভিযোগে। এই ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত, কারণ শিকারি পেশার সঙ্গে জড়িত অনেকেই দুর্ঘটনাক্রমে গাড়িতে গোলাবারুদ ফেলে রেখে সীমান্ত পার হওয়ার ভয়ে রয়েছেন।
রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আক্রমণের পর নরওয়েতে রুশ পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০১৯ সালে যেখানে ২ লাখ ৫০ হাজার রুশ পর্যটক এসেছিলেন, সেখানে গত বছর তা কমে ৫২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বোইনের পরিবার পর্যটন ব্যবসা চালায়, তবে তাদের ৮০ শতাংশ গ্রাহক এশিয়া বা ফিনল্যান্ড থেকে আসেন, তাই তাদের ব্যবসায় তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে তিনি জানান, রুশ পর্যটকদের অভাবে স্থানীয় অনেক দোকান বন্ধ হয়ে গেছে।
সীমান্ত বিভাজন সামি সংস্কৃতি ও আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বোইন জানান, যুদ্ধের কারণে রাশিয়ার বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থগিত রাখতে হয়েছে। তিনি বলেন, "তারা ভয় পায় কিছু ভুল করতে বা লিখতে। আপনি জানেন না, খুব ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ হলে কী ঘটতে পারে।" তিনি আরও বলেন, "আমি সতর্ক থাকতে চাই।"