যাকাত ইসলামের ফরজ বিধান। সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা ঠিকমতো যাকাত আদায় করলে আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ যাকাত আদায়ে গড়িমসি করলে বা ঠিকমতো যাকাত না দিলে তার জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তির কথা বলা হয়েছে।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, 'এবং তোমরা আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য যাকাত আদায় করো। অতঃপর তিনি তা দ্বিগুণ করে দেবেন।' (সুরা আর-রুম, আয়াত: ৩৯)
অন্য আয়াতে বর্ণিত হয়েছে, 'তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠা দান করি, তারা নামাজ কায়েম করে, যাকাত প্রদান করে, সৎকাজের আদেশ করে ও মন্দকাজে বাধা প্রদান করে।' (সুরা হজ, আয়াত: ৪১)
পবিত্র কোরআনে আরও বর্ণিত হয়েছে, 'আর যারা সোনা ও রূপা পুঞ্জীভূত করে রাখে, আর তা আল্লাহর রাস্তায় খরচ করে না, তুমি তাদের বেদনাদায়ক আজাবের সুসংবাদ দাও। যেদিন জাহান্নামের আগুনে তা গরম করা হবে, অতঃপর তা দিয়ে তাদের কপালে, পার্শ্বে এবং পিঠে সেঁক দেওয়া হবে। (আর বলা হবে) 'এটা তা-ই যা তোমরা নিজদের জন্য জমা করে রেখেছিলে। সুতরাং তোমরা যা জমা করেছিলে তার স্বাদ উপভোগ কর।' (সুরা তাওবাহ, আয়াত: ৩৫, ৩৬)
যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কে বা কারা যাকাত আদায়ের হকদার তা জেনে প্রকৃত হকদারকে যাকাত প্রদান করা। যদি কেউ ভুলে এমন ব্যক্তিকে যাকাত প্রদান করেন যিনি যাকাতের হকদার নয়, তাহলে বিধান কী?
যেমন: কেউ যাকাত আদায় করার সময় নিজের অজান্তে সম্পূর্ণ ভুলক্রমে এমন এক ব্যক্তিকে যাকাতের অর্থ দিয়ে দিল যে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে যাকাতের হকদার নয়। এমতাবস্থায় তার যাকাত আদায় হবে কি?
ফেকাহবিদদের মতে, যদি সম্পূর্ণ অজানাভাবে ধনী ব্যক্তিকে যাকাতের অর্থ দিয়ে দেওয়া হয়, আর দেওয়ার সময় তার দৃঢ় বিশ্বাস থাকে যে, যাকে যাকাতের অর্থ দেওয়া হচ্ছে, সে নিশ্চিতভাবে গরীব; কিন্তু পরবর্তীতে জানা গেল যে যাকে যাকাত দেওয়া হয়েছে তিনি ধনী, এমতাবস্থায় তার যাকাত আদায় হয়ে যাবে। এবং তাকে যে টাকা দেওয়া হয়েছে তা আর ফিরিয়ে আনবে না এবং নতুন করে যাকাতও দিতে হবে না।