মৌলভীবাজারে শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হয়েছে শুক্রবার থেকে। প্রতিমা ও মণ্ডপ সাজানোর কাজ শেষ করে মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে মন্ত্রপাঠ, উলুধ্বনি ও ঢাক, শঙ্খ ও কাঁসরের বাদ্য। পূজারিদের আরাধনায় মুখরিত মণ্ডপগুলোতে এত দিনের আয়োজন নতুন রূপ নিয়েছে।
শনিবার সকালে মৌলভীবাজার শহরের বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, মণ্ডপ সাজানোয় চলছে অঘোষিত প্রতিযোগিতা। কোনো মণ্ডপ সাজানো হয়েছে কান্তজিউ মন্দিরের আদলে, কোনোটি কৈলাস মন্দিরের রূপে। কোনোটির ভাবনাগত থিম ‘মা আসলেই আনন্দ’।
শুধু মণ্ডপই বর্ণিল সাজে সাজানো হয়নি, আশপাশও নানা রকম ফেস্টুন-ব্যানারে রঙিন। কোনো মণ্ডপ এলাকা ঘিরে মেলার আবহ তৈরি হয়েছে। দোকানিরা পসরা সাজিয়ে বসেছেন। কিছু মণ্ডপ প্রাঙ্গণে দোলনাসহ শিশুদের বিনোদনের আয়োজনও দেখা গেছে।
শহরের কাশীনাথ আলাউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠের মহেশ্বরী মণ্ডপটি সাজানো হয়েছে কান্তজিউ মন্দিরের সাজে। দিনাজপুরের প্রাচীন এই মন্দিরে রয়েছে সর্বোৎকৃষ্ট টেরাকোটা শিল্পের নিদর্শন। মহেশ্বরীতে সেই দৃষ্টিনন্দন টেরাকোটার সাজ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মণ্ডপের সামনের অংশও সুন্দর করে সাজানো হয়েছে।
মহেশ্বরী পূজামণ্ডপের পুরোহিত সৌরিন ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রতিবারের মতো এবারও মণ্ডপটি বর্ণিলভাবে সাজানো হয়েছে। ঐতিহাসিক কান্তজিউ মন্দিরের আদলে শৈল্পিক ও দৃষ্টিনন্দন করে মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে।’
অন্যদিকে শহরের সৈয়ারপুর এলাকায় ত্রিনয়নী শিববাড়ি মন্দির সেজেছে কৈলাস মন্দিরের সাজে। ভারতের মহারাষ্ট্রের ঔরঙ্গাবাদ জেলার ইলোরা গুহাতে শিলাকাটা কৈলাস মন্দিরের আদলে ভেতর-বাইরে সাজানো হয়েছে এই মণ্ডপ।
ত্রিনয়নীর মণ্ডপ এলাকায় মেলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফরেস্ট অফিস রোডের দুধারে স্থায়ী দোকানের পাশে অস্থায়ী দোকান বসেছে। মণ্ডপের পাশে ফুচকা, আইসক্রিম, খেলনা, প্রসাধনীসহ নানা পণ্যের দোকান রয়েছে। শিশুদের জন্য দোলনা, চরকি, নৌকা, খেলনা রেলগাড়িসহ বিনোদনের ব্যবস্থা আছে।
ত্রিনয়নী শিববাড়ি পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি স্বাগত কিশোর দাশ চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিবছরই আমাদের আয়োজনে নতুন কিছু থাকে। এবারে আমাদের থিম হচ্ছে কৈলাস থেকে দেবীর মর্ত্যলোকে বা মানুষের মধ্যে আগমনের বিষয়টি। মণ্ডপটিকে কৈলাস মন্দিরের আদলে সাজানো হয়েছে।’
শহরের আবাহন পূজামণ্ডপের এবারের থিম ‘দৈবদ্বার’। মণ্ডপের সভাপতি সন্তোষ কান্তি দাশ বলেন, থিমের সঙ্গে মিল রেখে ২৫ জন দেব-দেবীর প্রতিমা দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে।
সৈয়ারপুর লক্ষ্মীবালা স্কুল রোডের নবরূপা সংঘ তাদের মণ্ডপে দেবী দুর্গার ঘোড়ায় আগমন ও নৌকায় গমনের বার্তা প্রতীকীভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। মনু সেতুর কাছে হরিজন যুবসংঘের মণ্ডপের থিম ‘মা আসলেই আনন্দ’। শহরের অন্যান্য মণ্ডপও নানা রঙে সাজানো হয়েছে।
মৌলভীবাজার পূজা উদ্যাপন পরিষদ কমিটি সূত্রে জানা গেছে, এবার সারা জেলায় ব্যক্তিগত ১২২টিসহ ১ হাজার ২২টি পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার পূজা উদ্যাপন পরিষদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মহিম দে বলেন, ‘সুন্দরভাবে পূজা শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও খুব তৎপর আছে। এখনো কোনো সমস্যা নেই।’
পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক সুনীল কুমার দাশ বলেন, ‘পুলিশসহ স্থানীয় প্রশাসন সুন্দরভাবে কাজ করছে। আশা করছি, সুন্দরভাবেই পূজা সম্পন্ন হবে।’
জেলা পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই আমাদের প্রস্তুতি চলছে। পূজা সুন্দরভাবে উদ্যাপন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে। সীমান্ত এলাকাতে বিজিবি আছে। প্রয়োজনে পুলিশও সহযোগিতা করবে।’