যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের পর নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদেরও নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ৪৩৫ আসনের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২২০ আসনে জয় পেয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকানরা পেয়েছে ১২৬ আসন।
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পথে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে এ পর্যন্ত নতুন করে ২৫টি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেতে প্রয়োজন ২১৮ আসন।
এর আগে সিনেটের নিয়ন্ত্রণও রিপাবলিকানদের কাছ থেকে নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। এর মধ্য দিয়ে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণে বড় পরিবর্তন ঘটেছে। সিনেটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটদের প্রয়োজন ছিল মাত্র ১টি আসন, সেটিও তারা নিশ্চিত করেছে।
সর্বশেষ ফলাফল অনুযায়ী, সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা ৫১টি আসনে জয় নিশ্চিত করেছে এবং আরও ২টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। রিপাবলিকানরা ৩৯টি আসনে জয় পেয়েছে এবং ৬টি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ১টি আসনের ফল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেতে মোট ৫১টি আসন প্রয়োজন।
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে ওয়াশিংটনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের একচ্ছত্র আধিপত্য ভাঙতে চলেছে ডেমোক্র্যাটরা। এই জয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ডেমোক্রেটিক পার্টির আগামী দুই বছরের রাজনৈতিক সংঘাতের পথ তৈরি করবে।
ডেমোক্র্যাটদের নজর সিনেটেও রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেখানেও তারা অন্তত দুটি আসনে জয়ী হয়ে রিপাবলিকানদের হাত থেকে তা ছিনিয়ে নেবে। এর মধ্যে সাউথ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ডার্লিন গ্রাহামকে পরাজিত করতে চলেছেন। এ ছাড়া তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনেও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে নতুন ইতিহাস তৈরি হতে চলেছে। সিএনএনের ডিসিশন ডেস্কের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কিশা ল্যান্স বটমস যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য বায়রন ডোনাল্ডস অঙ্গরাজ্যটির পরবর্তী গভর্নর হতে চলেছেন। এ জয়ের মাধ্যমে তিনি ফ্লোরিডার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ শীর্ষ নেতা হিসেবে ইতিহাস গড়বেন।
মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটপ্রার্থী আবদুল আল-সাইদ রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। ওই রাজ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে সর্বশেষ ৬০ শতাংশের বেশি ভোট গণনায় আল-সাইদ এক লাখের কাছাকাছি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন।
প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হিসেবে পঞ্চম মেয়াদে জয় পেয়েছেন রাশিদা তালিব। দেশটির ইতিহাসে একমাত্র ফিলিস্তিনি-আমেরিকান কংগ্রেস সদস্য তিনি। মিশিগানের টুয়েলভথ কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয়ী হয়ে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী জেমস হুপার ও গ্রিন পার্টির ব্রেন্ডা স্যান্ডার্সকে বিপুল ভোটে হারিয়েছেন।
জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির জন অসফ জয়ী হয়েছেন। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক কলিন্সকে হারিয়ে তিনি সিনেটর পদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। কলিন্স প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য। জন অসফ ২০২১ সাল থেকে সিনেটরের দায়িত্বে রয়েছেন।
জর্জিয়ার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোটের লড়াই আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচনী প্রচারের সময় শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শের ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে মাইক কলিন্স তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। অন্যদিকে জন অসফ তাঁর প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয়সাশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও সরকারের জবাবদিহির বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শেষে গণনা চলছে। দেশটির সব অঙ্গরাজ্যে একসঙ্গে ভোটকেন্দ্র বন্ধ হয় না; স্থানীয় সময় অনুযায়ী ধাপে ধাপে ভোট গ্রহণ শেষ হয়। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনে এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হয়েছে। এ ছাড়া ৩৬টি অঙ্গরাজ্যে গভর্নর নির্বাচন হয়েছে।
কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে তা নির্ভর করছে এসব আসনের ফলাফলের ওপর। বর্তমানে দুই কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে। ডেমোক্র্যাটরা অন্তত একটি কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে চাইছে।
ভোট গণনা শুরুর পর প্রথম ফলাফল আসতে শুরু করেছে। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী মার্ক ওয়ার্নারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও, টেক্সাসের মতো অঙ্গরাজ্যের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এসব জায়গায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেশ হাড্ডাহাড্ডি।
তবে ভোট গণনা শেষ হলেই সব আসনের ফলাফল দ্রুত জানা যাবে না। অঙ্গরাজ্যভেদে ভোট গণনার পদ্ধতি ও গতি আলাদা। কোথাও ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অধিকাংশ ভোট গণনা হয়ে যায়, আবার কোথাও ডাকযোগে পাঠানো ও আগাম ভোটের ব্যালট গণনা করতে বেশি সময় লাগে। বিশেষ করে মেইন ও আলাস্কার মতো অঙ্গরাজ্যে ফলাফল জানতে দেরি হতে পারে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হলে কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করতেও সময় লাগে। এ কারণে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।