লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচে পাকিস্তান ৯ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রানে থাকার পরও জয় পেয়েছে। শেষ উইকেটে শাদাব খান ও হারিস রউফের অবিশ্বাস্য জুটিতে ২৪২ রানের লক্ষ্য পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। এই জুটিতে ভেঙে যায় ওয়ানডেতে সফল রান তাড়ায় দশম উইকেটের ৫১ বছরের পুরোনো রেকর্ড।
ম্যাচের ৪৫তম ওভারে গাস অ্যাটকিনসনের বলে শাদাবের প্যাডে বল লাগলে আম্পায়ার আউট দেন। পাকিস্তানের জিততে তখন ২০ রান দরকার, শাদাব ৯৭ রানে। সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে। হতাশায় ব্যাট দিয়ে মাটিতে আঘাত করেন শাদাব, রিভিউ নেওয়ার কথাও ভুলে যান। টাইমারে তখন মাত্র দুই সেকেন্ড বাকি।
ঠিক তখনই হারিস রউফের তাড়া, ‘রিভিউটা কি বাড়িতে নিয়ে যাবে নাকি?’ পরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশিত ভিডিওতে শোনা যায় হারিসের সেই কথা। শেষ মুহূর্তে রিভিউ নেন শাদাব। আলট্রাএজে দেখা যায় ছোট্ট একটি স্পাইক, বল ব্যাট ছুঁয়েছে। নট আউট হন শাদাব, বেঁচে যায় পাকিস্তানও।
এর আগে ২৮তম ওভারে শাদাবের প্রথম রিভিউ নষ্ট হয়। বেন ডাকেটের প্যাডে বল লাগলে প্রবল আবেদন করেছিলেন তিনি, কিন্তু রিভিউতে সুবিধা হয়নি। ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে যুবরাজ সিংকে আউট করার সেই আত্মবিশ্বাসী শাদাবের সঙ্গে এবারের চিত্র ভিন্ন।
শাদাবের সাম্প্রতিক বোলিং পরিসংখ্যান তাঁর মরিয়া হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে। ২০২৩ সালের আগে ওয়ানডেতে ৫১ ম্যাচে ৭০ উইকেট নিয়েছিলেন শাদাব, বোলিং গড় ৩১.৬, ইকোনমি ৫.০৯। ২০২৩ সাল থেকে ২০ ইনিংসে মাত্র ১৭ উইকেট, বোলিং গড় ৫৪, ইকোনমি ৫.৬৪। ২০২৩ বিশ্বকাপে স্পিনারদের সহায়ক উইকেটেও মাত্র ২ উইকেট পান তিনি। ম্যাচ শেষে শাদাব স্বীকার করেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে আমার পারফরম্যান্স যে ভালো ছিল না, সেটা তো সত্যি।’
ব্যাটিংয়ে শাদাবের রূপান্তরও চোখে পড়ার মতো। ২০২২ সাল পর্যন্ত ওয়ানডেতে তাঁর ব্যাটিং গড় ছিল ২৪.১, স্ট্রাইক রেট ৭১.৪। ২০২২ সালের পর থেকে ওয়ানডেতে গড় প্রায় ৪০, স্ট্রাইক রেট ১০০। টি-টুয়েন্টিতে স্ট্রাইক রেট ১৩০-এর নিচ থেকে বেড়ে ১৪৪। ওয়ানডেতে সাত বা তার নিচের পজিশনে ব্যাট করা ক্রিকেটারদের মধ্যে এই সময়ে শাদাবের চেয়ে বেশি গড় শুধু মাইকেল ব্রেসওয়েলের।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারককে শাদাব বলেন, ‘ব্যাটসম্যান হিসেবে সাম্প্রতিক সময়ে আমার ফর্ম ভালো। সে কারণেই বিশ্বাস ছিল, ম্যাচটা জেতাতে পারব।’ ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলার অভিজ্ঞতা কাজে লেগেছে বলে জানান তিনি। শাদাবের ভাষায়, ‘আমরা আগে যতটা সম্ভব জোরে বল মারার চেষ্টা করতাম। কিন্তু ওরা ব্যাপারটা খুব সহজ রাখে।’
শেষ দিকে হারিস রউফের অদ্ভুত আবদারও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইংল্যান্ড ফিল্ডারদের কাছে এনে হারিসকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছিল। শাদাব তাঁকে কোনোভাবে সিঙ্গেল নিয়ে প্রান্ত বদলাতে বলেছিলেন। কিন্তু হারিস রাজি হননি। শাদাবের ভাষ্য অনুযায়ী, হারিস বলেছিলেন, ‘জয়সূচক শটটা আমিই মারব’ এবং সেটাই করেছেন। চার মেরে পাকিস্তানকে জেতান তিনি।
এই জয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের চিরচেনা রূপই যেন ফুটে উঠেছে—যখন মনে হয় সব শেষ, তখনই কোথা থেকে যেন নতুন গল্পের শুরু। কখনো শাদাবের, কখনো হারিসের।