চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে লরির ধাক্কায় উল্টে যাওয়া একটি মিনিবাসের নিচে চাপা পড়ে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) এক ছাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও এক ছাত্রীসহ তিনজন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সোনাইছড়ি ইউনিয়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শিক্ষার্থীর নাম মাইশা মুশফিরাত। তিনি আইআইইউসির ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আহত অপর শিক্ষার্থীসহ তিনজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দেখা দেয় প্রায় ১০ কিলোমিটার যানজট। দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত মহাসড়ক অবরোধ অব্যাহত ছিল।
দুর্ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দুটি লরি পরস্পরের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছিল। এ সময় একটি লরি থেমে থাকা একটি মিনিবাসকে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি কাত হয়ে উল্টে পড়ে।
মহাসড়ক অবরোধে থাকা শিক্ষার্থীদের একজন ও আইআইইউসির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র শাহ নেওয়াজ চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার আশঙ্কায় তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পদচারী-সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছেন। দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থী নিহতের প্রতিবাদ ও পদচারী-সেতুর দাবিতে তাঁরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট শফিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক এলাকায় মিনিবাস থেকে ওই ছাত্রী নামেন। এর একটু পর তাঁর ওপর মিনিবাসটি উল্টে পড়ে। একই সময়ে মিনিবাসটিতে চাপা পড়ে আরও তিনজন আহত হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় লোকজন লরি দুটিকে জব্দ করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জব্দ লরি দুটি ও মিনিবাসটি উদ্ধার করে হাইওয়ে থানায় নিয়ে আসে। পরে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোস্তফা মুনির চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বাস থেকে নামার সময় দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। আরেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। তিনি বিষয়টি দেখভাল করছেন।