ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের ভোটারদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই বলেছিলেন এটি তার শেষ নির্বাচন, তাই এখন দেলাওয়ার হোসেনকে বিজয়ী করতে হবে।
রোববার (১১ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে আয়োজিত এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, শুধু জামায়াত নয়, এবার বিএনপিও দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবে। কারণ ঠাকুরগাঁওয়ে নতুন করে চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি আমরা দেখতে চাই না।
রাশেদ প্রধান বলেন, আমাদের রাষ্ট্রপতি আমাদের যে দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, তা পালন করতে চাই। অবহেলিত উত্তরবঙ্গের জেলা পঞ্চগড় যেমন অবহেলিত, ঠাকুরগাঁওও অবহেলিত। সেই অবহেলিত ঠাকুরগাঁওকে আমাদের যোগ্য প্রার্থী মজলুম দেলাওয়ার ভাই নতুন করে গড়ে তুলবে এবং সেই সুযোগ আমাদের সৃষ্টি করে দিতে হবে।
নির্বাচনে ভোটের ফলাফল সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানিয়ে জাগপা মুখপাত্র বলেন, ২৯ তারিখ ঈমানদারের সাথে আমরা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে সিল মারবো। এইবার যাতে ভোটের ফলাফল কেউ ঘুরিয়ে দিতে না পারে, সেজন্য প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রে পাহারা দিয়ে ভোট গণনা শেষ করে তারপর বাড়ি ফিরব।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে রাশেদ প্রধান বলেন, নির্বাচনের আগে তারা বলেছিল জাতীয় নির্বাচন হয়ে গেলে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। তারা ফ্যামিলি কার্ড দেবে, সেই কার্ড দিয়ে সকল বাজার-সদাই করা যাবে, ঘরে ঘরে চাকরি হবে, দেশের অনেক উন্নতি হবে। নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর আমি দেখতে পেলাম, ঘরে ঘরে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছায়নি। তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দেওয়া হলো এবং সেই বিদ্যুৎ তারা দিতে পারে না কিন্তু অধিক বিল নিয়ে গেল।
তিনি আরও বলেন, এরপরে নতুন করে এসেছি তাদের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও লুটপাট। আমার পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সংসার চলে কৃষি কাজ করে। আমরা কৃষক সম্প্রদায়ের মানুষ, কৃষিকাজ করতে যে সার লাগে, সেই সার নিয়েও তারা সিন্ডিকেট করে ফেলল এবং সারের দাম বাড়িয়ে ফেলল।
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী দেলাওয়ারের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে যে ভাইটা এখানে এসেছে, আমার মজলুম ভাই, এই ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের মানুষ মজলুম, মজলুমের কষ্ট একজন মজলুম বুঝে। মজলুমের কষ্ট সেই মানুষ বুঝবে না যারা দুর্নীতি, লুটপাট ও চাঁদাবাজি করে রাতের আঁধার নেমে আসলে বোতল খুলে বসে লাল নীল রংয়ের পানি নিয়ে। মজলুমের কষ্ট বোঝার জন্য একটা মজলুমের দরকার। এই মজলুম ভাই হলো দেলাওয়ার ভাই। ২৯ অক্টোবর দুর্নীতি, লুটপাট ও সন্ত্রাসের প্রতিবাদী হিসেবে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেবেন।
এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন– বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী ডেলোয়ার হোসেন, কাদেমুল ইসলাম, আবদুল আলীম নিজামী এবং হোসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফয়সল আমীনই নির্বাচনে রয়েছেন। ৭ অক্টোবর ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। ৮ অক্টোবর প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া-ভুল্লী) আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। সদর, রুহিয়া ও নবগঠিত ভূল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত এই আসনে ২২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসনটি ছেড়ে দেওয়ায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়। সেই শূন্য আসনেই আগামী ২৯ অক্টোবর উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।