Deleted
প্রকাশ : Sep 27, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

নিরপেক্ষতার কঠোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলো সুইজারল্যান্ড, ভোট পড়েছে ৭০ শতাংশ

সুইজারল্যান্ডে নিরপেক্ষতার কঠোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির ভোটাররা। প্রস্তাবটির বিরুদ্ধে ভোট পড়েছে ৭০ শতাংশ। রাশিয়া প্রকাশ্যে এই উদ্যোগকে সমর্থন করেছিল।

ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর সুইজারল্যান্ডের কয়েক শতাব্দীর পুরোনো জোটনিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। দেশটির ডানপন্থি সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি) প্রস্তাবটির পক্ষে থাকলেও ফেডারেল সরকার ও অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান জিএফএস.বার্নের সহপরিচালক লুকাস গোল্ডার সুইজারল্যান্ডের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এসআরএফকে বলেন, ভোটাররা নিরপেক্ষতা থেকে সরে যাওয়ার পক্ষে ভোট দেননি। বরং ভোটের ফলাফল থেকে বোঝা যায়, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে সুইস জনগণের সমর্থন রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সুইজারল্যান্ডের নিরপেক্ষতা থেকে কী অর্জন করা উচিত, সে বিষয়ে মানুষের একটি পরিষ্কার ধারণা রয়েছে।’

সম্প্রতি এক টেলিভিশন বিতর্কে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগনাজিও ক্যাসিস বলেন, ‘নিরপেক্ষতা সবসময় কিছুটা নমনীয়তার সঙ্গে প্রয়োগ করা হয়েছে।’

তিনি জানান, সংঘাতপূর্ণ দেশগুলোর কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সুইজারল্যান্ডের নেই। এর মধ্যে ইউক্রেনও রয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘নিরপেক্ষতার অর্থ উদাসীনতা নয়।’

ক্যাসিস আরও বলেন, ‘আন্তর্জাতিক যে নিয়মগুলো আমাদের শান্তিতে বসবাসের সুযোগ করে দেয়, সেগুলোর লঙ্ঘন দেখেও সুইজারল্যান্ড চোখ ফিরিয়ে নেবে না।’

ইউরোপে যুদ্ধ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ১৮১৫ সালে ভিয়েনা কংগ্রেসে সুইজারল্যান্ডকে ‘চিরস্থায়ী নিরপেক্ষতা’ দেওয়ার মাধ্যমে দেশটির নিরপেক্ষতা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পায়। ১৯০৭ সালের হেগ কনভেনশনের মাধ্যমে এই নিরপেক্ষতার আইনি কাঠামো নির্ধারিত হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধে লিপ্ত দেশগুলোকে অস্ত্র সরবরাহ থেকে সুইজারল্যান্ডকে বিরত থাকতে হয়। এর আগে ইউক্রেনে পাঠানোর জন্য জার্মানি সুইজারল্যান্ডের কাছে ট্যাংকের গোলাবারুদ চাইলেও সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছিল দেশটি।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও সুইজারল্যান্ড নিরপেক্ষ ছিল। তবে ওই সময়ে নাৎসিদের লুট করা সোনা গ্রহণ এবং নাৎসি জার্মানির আগ্রাসন ঠেকানোর প্রচেষ্টায় হাজার হাজার ইহুদি শরণার্থীকে সীমান্ত থেকে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছিল। ১৯৯০-এর দশকে এসব নীতির জন্য সুইজারল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করে।

দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সরাসরি গণতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের অনেকগুলোই গণভোটের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে উপস্থাপন করা হয়।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

পরাজিত শক্তির মদদে নাশকতা চালানো হচ্ছে: রিজভী

1

জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ, সিজেপি নেতাদের গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

2

প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন নীতিমালা পুনর্মূল্যায়নে ১৭ সদস্যের কমিট

3

শ্রীপুরে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ, সাউন্ড গ্রেনেড

4

এপেক সম্মেলনে এআই অর্থনীতি নিয়ে আলোচনার সুযোগ

5

অপু বিশ্বাসের 'প্রিয় বন্ধু ও বিজনেস মেন্টর' কে এই যুবক?

6

রাশিয়ায় জাপানি সাংবাদিক আটক, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ

7

মাস্কের ডোজের নথি চেয়ে মামলা, শুনবে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

8

একাকীত্ব বাড়ছে চীনে, জনপ্রিয় হচ্ছে অর্থের বিনিময়ে সঙ্গসেব

9

টিকটকে প্রেম, দেখা করতে গিয়ে কিশোরী ধর্ষণের শিকার; অভিযুক্ত

10

ঢাবিতে নিকাব বিতর্ক ও শিক্ষককে বিরতি: শ্রেণিকক্ষটা তাহলে কার

11

সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনে অগ্নিকাণ্ড, দ্রুত নিভিয়ে ফেলা হয়েছে

12

আমাদের জীবিত কিংবদন্তি দিলারা জামান...

13

দক্ষতা উন্নয়নে নজর কম, ফ্রিল্যান্সার তৈরির হিড়িক

14

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ১৪ শিক্ষক অবরুদ্ধ, অধ্যক্ষ বদলি কর

15

রিয়াদ বিমানবন্দর বন্ধ, শাহজালালে আটকে পড়েছেন হাজারো যাত্রী

16

দুই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ও সাবেক সেনাদের প্ল্যাটফর্ম: দেবাশীষ-

17

প্রযুক্তি ও গবেষণা সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে: শ

18

সিটিটিসি এখন 'এসআরইউ ডিএমপি', বদলাচ্ছে পুলিশের বিশেষ দুই ইউন

19

শখ থেকে পেশা: শখের কাজেই ক্যারিয়ার গড়ার নতুন ধারা

20