
চলতি বছর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদের দাপট স্পষ্ট। গতকাল শেষ হওয়া পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা সিরিজেও ফিফটি হাঁকিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক সাহিবজাদা ফারহান, আর শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস খেলেছেন ৮৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। চলমান ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও শাই হোপ, ঈশান কিষান, শ্রেয়াস আইয়ারের ব্যাটে বড় ইনিংস দেখা যাচ্ছে।
চলতি বছরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০০ রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন কেবল একজন—ভারতের ঈশান কিষান। তিন নম্বরে খেলা এই ব্যাটসম্যান ৩২ ম্যাচে করেছেন ১১২২ রান। তালিকার দুই নম্বরে আছেন আরেক ভারতীয় অভিষেক শর্মা, সমান ৩২ ম্যাচে তাঁর রান ৯২১। আজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে এক হাজার রান ছুঁতে পারেন অভিষেক। তাহলে ভারতের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে এক বছরে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এক হাজার রানের ক্লাবে ঢুকবেন তিনি।
ভারতের হয়ে এক বছরে এক হাজার রানের কীর্তি সবার আগে গড়েছেন সূর্যকুমার যাদব। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এক বছরে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ানের—২০২১ সালে ৭৩.৬৬ গড় ও ১৩৪-এর বেশি স্ট্রাইক রেটে ১৩২৬ রান, সঙ্গে একটি সেঞ্চুরি ও ১২টি ফিফটি।
চলতি বছরের রান তালিকায় তৃতীয় অস্ট্রিয়ার করণবীর সিং (২৪ ইনিংসে ৮৯৫ রান, গড় ৪২.৬১, স্ট্রাইক রেট ১৮৪.৯১)। চতুর্থ পাকিস্তানের সাহিবজাদা ফারহান (১৫ ম্যাচে ৬৯৭ রান), পঞ্চম ইংল্যান্ড অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক (১৮ ম্যাচে ৬৯০ রান)।
ছক্কা মারায় শীর্ষে করণবীর, ২৪ ইনিংসে ৭৮টি ছক্কা। অভিষেক শর্মা ৬৮টি ছক্কা মেরেছেন। তবে দ্রুত রান তোলায় সবার এগিয়ে অভিষেক, তাঁর স্ট্রাইক রেট ২০৬.৫০। দ্বিতীয় স্থানে ব্রুক (১৮৯.০৪), করণবীর ১৮৪.৯১, কিষান ১৭০ এবং সাহিবজাদা সবার পেছনে।
ব্যাটিং গড়ে শীর্ষে সাহিবজাদা ফারহান, ১৫ ইনিংসে ৬৯৭ রানে গড় ৪৯.৭৮। ব্রুক ১৮ ইনিংসে ৬৯০ রানে গড় ৪৯.২৮। তৃতীয় করণবীর (৪২.৬১), কিষান ৩৮.৬৮ এবং অভিষেক ২৯.৭০। রানে এগিয়ে থাকলেও গড়ে পিছিয়ে অভিষেক, তবে দ্রুত রান তোলার সামর্থ্যে আলাদা।
সব ধরনের টি-টোয়েন্টি বিবেচনায় চলতি বছর সর্বোচ্চ রান কিষানের—১৭২৪। দ্বিতীয় মিচেল মার্শ (১৫৪৪)। শীর্ষ পাঁচে বাকিরা—জস বাটলার, টিম সাইফার্ট ও লুয়ান-ড্রে প্রিটোরিয়াস। ছক্কায় শীর্ষে অভিষেক, ১১১টি। ১০০ ছক্কা হাঁকিয়েছেন আরও দুজন—ডেভাল্ড ব্রেভিস ও ফিন অ্যালেন, প্রত্যেকে ১০১টি।