
ডারবানে সিরিজের প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ম্যাট রেনশরের ১৯০ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংসে ৩৯০ রান করেছে। জবাবে দ্বিতীয় দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা ১ উইকেটে ২৭ রান করেছে।
প্রথম দিন খারাপ আলোর কারণে মাত্র ৬৫.২ ওভার খেলা হয়। দ্বিতীয় দিন সকালে অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেটে ১৮৭ রান নিয়ে খেলতে নামে। রেনশর সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন অধিনায়ক প্যাট কামিন্স, দুজনের জুটি ছিল ৬৩ রানের।
এর আগে প্রথম দিনে অস্ট্রেলিয়া ৬ উইকেটে ১২৪ রানে থাকলে ব্যাটিংয়ের পুরোনো রোগ দেখা দেয়। ডারবানের উইকেটে বাউন্স ও সিমের নড়াচড়ায় রেনশরকে দায়িত্ব নিতে হয়।
রেনশরের টেস্টে একমাত্র সেঞ্চুরি ছিল ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে সিডনিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৮৪ রান। এরপর সাড়ে তিন বছর পর গত আগস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ওপেনার হিসেবে ফিরেছিলেন। এবার ওপেনারের জায়গা নেন নিক ম্যাডিনসন, তবে সেই চমক বুমেরাং হয়েছে।
চোটের কারণে ক্যামেরন গ্রিন খেলছেন না, তাঁর জায়গায় পাঁচে নেমে রেনশর সাফল্য পেয়েছেন। ২০২৩ সালের ভারত সফরে এই পজিশনে চারবার ব্যাট করেছিলেন, তেমন রান পাননি। তবে কুইন্সল্যান্ডের হয়ে এই পজিশনে নিয়মিত রান পেয়েছেন, সেই আত্মবিশ্বাস কাজে লেগেছে।
প্রথম দিনের নায়ক আনরিখ নরকিয়া সাড়ে তিন বছরের নির্বাসন কাটিয়ে ফিরে ভয়ংকর শর্ট বল করেছেন। কামিন্স তাঁকে ফুল লেংথেও বোকা বানাতে চেয়েছেন, তবে কামিন্স বিচলিত হননি। একটি ওভারপিচড বল স্কয়ার ড্রাইভে বাউন্ডারি মেরে ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর টেস্টে প্রথম ফিফটির হাতছানি দেন, কিন্তু ৪৩ রানে মুল্ডারের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দেন।
কামিন্স ফিরলেও রেনশর ছিলেন অটল। রিভার্স সুইপ তাঁর ব্যক্তিগত ভাষা হয়ে ওঠে। স্পিনের বিপক্ষে দুর্বলতা থাকলেও কেশব মহারাজকে বারবার এই শটে খেলে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন। মিচেল স্টার্ক কামিন্সের মতো ডিফেন্সিভ মেজাজে ব্যাট করেন, সাইমন হার্মারের বলে তাঁর ব্যাটের কানা লেগে বল সীমানায় যায়। তবে দ্বিতীয় নতুন বলে মুল্ডারের অসাধারণ ডেলিভারিতে স্টার্ক বোল্ড হন।
লাঞ্চের ঠিক আগে রেনশর সেঞ্চুরি আসে লেগ সাইডে বাউন্ডারির মাধ্যমে। দুই হাত আকাশে তুলে হেলমেট খুলে ফেলা মুখে চওড়া হাসি ছিল সাড়ে নয় বছরের জমে থাকা আনন্দের।
লাঞ্চের পর নরকিয়ার ১৪৩ কিলোমিটার গতির বল লাগে রেনশরের হেলমেটের গ্রিলে। মাঠে নিস্তব্ধতা নেমে আসে। চিকিৎসা নিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে থাম্পস আপ দিয়ে জানান তিনি ঠিক আছেন। এরপর আবার ব্যাটিং শুরু করেন। ১৫০ রান পূর্ণ করেন সেই রিভার্স সুইপেই, মহারাজকে।
শেষ বিকেলে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে আরেক দফা টেনে নেন নাথান লায়ন। রেনশরের সঙ্গে নবম উইকেটে তাঁর ১৩৪ রানের জুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার নবম উইকেটের রেকর্ড। লায়ন মার্কো ইয়ানসেনের ফুল ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হন। কামিন্স ও লায়ন মিলে খেলেন ১৯০ বল, যা অস্ট্রেলিয়ার শীর্ষ চার ব্যাটসম্যানের মোট খেলা বলের চেয়ে ২৭ বেশি। শীর্ষ চারজন যা পারেননি, লেজের দুজন তা করে দেখিয়েছেন। এরপর জশ হ্যাজলউড টিকে থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার হতাশা বাড়ান।
রেনশরের ডাবল সেঞ্চুরি প্রায় নিশ্চিত মনে হলেও, বাঁহাতি স্পিনার সাইমন হার্মারের বলে স্লিপে মার্করামের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন। ততক্ষণে অস্ট্রেলিয়া দক্ষিণ আফ্রিকাকে চাপে রাখার মতো রান পেয়ে যায়।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ১৩৭.২ ওভারে ৩৯০ (রেনশর ১৯০, কামিন্স ৩৩, লাবুশেন ৩৭; মুল্ডার ৪/৬৮, নরকিয়া ৩/৬৮, নরকিয়া ২/৮৮)। দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৮.৪ ওভারে ২৭/১ (মার্করাম ১৫*, বেডিংহাম ১২; হ্যাজলউড ১/৯)।