
রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল রাতে ইস্পাহানি গ্রুপ ও দ্য ডেইলি স্টারের যৌথ উদ্যোগে ব্লেন্ডারস চয়েস-দ্য ডেইলি স্টার ওটিটি অ্যান্ড ডিজিটাল কনটেন্ট অ্যাওয়ার্ডস ২০২৫-এর জমকালো আসর বসে। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে শুরু হয় রেড কার্পেট পর্ব, যা চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। এরপর জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে মূল অনুষ্ঠান শুরু হয় এবং পুরস্কার বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
চলতি বছর জনপ্রিয়, সমালোচক, সংগীত ও ব্যক্তিগত কনটেন্ট বিভাগে মোট ২৮টি ক্যাটাগরিতে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। ওটিটির বিভিন্ন কনটেন্টে মোট পুরস্কার ছিল ২৩টি। এর মধ্যে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকি জিতেছে সর্বোচ্চ ১৭টি পুরস্কার। অন্য প্ল্যাটফর্মের মধ্যে হইচই জিতেছে চারটি পুরস্কার। এ ছাড়া আইস্ক্রিন ও বিঞ্জ পেয়েছে একটি করে পুরস্কার।
নুহাশ হুমায়ূনের ‘২ষ’ ছিল এবারের আসরের অন্যতম আলোচিত কাজ। এটি সেরা পরিচালকসহ সমালোচক বিভাগে মোট আটটি পুরস্কার অর্জন করে। বোহেমিয়ান ঘোড়া সেরা নাটক/সিরিজ এবং ঘুমপরী সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নেয়। জনপ্রিয় বিভাগে সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রী নির্বাচিত হন আফরান নিশো ও মেহজাবীন চৌধুরী। সমালোচক বিভাগে সেরা অভিনেতা ও অভিনেত্রীর পুরস্কার অর্জন করেন মোশাররফ করিম ও তমা মির্জা।
অনুষ্ঠানে অভিনেত্রী তমা মির্জা তার মা ফাতেমা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে আসেন। দুজনকে দেখে আলোকচিত্রীরা ভিড় করেন, মাকে জড়িয়ে ধরে ক্যামেরায় পোজ দিলেন তিনি। ছবি তোলা শেষে তমা প্রথম আলোকে বলেন, ‘কোনো অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রামে মনোনয়ন পেলে আমি আম্মুকে নিয়ে আসি। আম্মুও অ্যাওয়ার্ড প্রোগ্রামে আসত পছন্দ করে। আম্মু খুব লাকি, আম্মুকে সঙ্গে আনলে বেশির ভাগ সময় পুরস্কার পেয়েছি।’ গত বছরের আসরেও এসেছিলেন ফাতেমা বেগম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘ও (তমা মির্জা) খুব ভালো কাজ করছে। আমি এখানে এসে খুব আনন্দিত।’
অনুষ্ঠানে দম্পতিদের মধ্যে ওয়াহিদা মল্লিক জলি ও রহমত আলী, দীপা খন্দকার ও শাহেদ আলী, ফাতিমা তুয যাহরা ঐশী ও আরেফিন জিলানীসহ আরও অনেকে আসেন। জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, লাবণ্য চৌধুরী, সাদনিমা বিনতে নোমানসহ আরও অনেকে একা এসেছেন। ঐশী প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে এলে সিনেমা, নাটক ও সংগীতের অনেকের সঙ্গে দেখা হয়। দারুণ সময় কাটছে।’
রেড কার্পেটে হাঁটতে দেখা যায় রিচি সোলায়মান, দীপা খন্দকার, সুমাইয়া শিমু, মেহজাবীন চৌধুরী, আশফাক নিপুন, সুনেরাহ্ বিনতে কামালসহ আরও অনেককে। পুরস্কার বিতরণের ফাঁকে সন্ধ্যাজুড়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। উদ্বোধনী পরিবেশনায় অংশ নেন সারিকা সাবাহ ও আলিফিয়া স্কোয়াড। এরপর সুনেরাহ্ বিনতে কামাল, ইরফান সাজ্জাদ ও মেহজাবীন চৌধুরীর পরিবেশনা ছিল। সবশেষে গান পরিবেশন করে বাংলা সিম্ফনি।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ইস্পাহানি গ্রুপের চেয়ারম্যান মির্জা সালমান ইস্পাহানি ও দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম। মির্জা সালমান ইস্পাহানি বলেন, ‘যাঁরা পুরস্কার পাচ্ছেন, তাঁদের অভিনন্দন জানাই।’ মাহফুজ আনাম বলেন, ‘ওটিটির কাজের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ওটিটি মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার কথা প্রকাশ করে। যখন অপূর্ব ছবি দেখি, সেই অনুভূতি দিনের পর দিন থেকে যায়। শিল্পে আমাদের কালচারাল হেরিটেজকে ধরে রাখতে হবে। আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য নিয়ে আমাদের বাংলাদেশ। ওটিটির প্রক্রিয়ার মধ্যে আমরা কালচারাল হেরিটেজকে সমৃদ্ধ করব। সেই চেতনাবোধ থেকে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী দিলারা জামান, অভিনেতা তারিক আনাম খান, লেখক ইমদাদুল হক মিলন, ফোয়াদ নাসের বাবু, আসিফ ইকবাল, শহীদুজ্জামান সেলিম, রুনা খান, দীপা খন্দকার, সালাউদ্দিন লাভলু, রেদওয়ান রনি, সাকিব আর খান, অনিমেষ আইচ, ভাবনা, লাবণ্য চৌধুরী, সাদনিমা বিনতে নোমান, সাদ নাওভিসহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানের রেড কার্পেট পর্ব উপস্থাপনা করেন প্রিয়ন্তী উর্বী ও প্রান্তর দস্তিদার। মূল অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন আফসান আরা বিন্দু ও রাফসান সাবাব।
একনজরে পুরস্কার বিজয়ীরা:
জনপ্রিয় বিভাগ: সেরা অভিনেতা—আফরান নিশো (আকা), সেরা অভিনেত্রী—মেহজাবীন চৌধুরী (নীলসুখ), সেরা পার্শ্ব অভিনেতা—মনোজ প্রামাণিক (অমীমাংসিত), সেরা পার্শ্ব অভিনেত্রী—রুনা খান (বোহেমিয়ান ঘোড়া), নাটক/সিরিজের সেরা পরিচালক—ভিকি জাহেদ (আকা), চলচ্চিত্রের সেরা পরিচালক—রায়হান রাফী (আমলনামা), সেরা চলচ্চিত্র—ঘুমপরী, সেরা নাটক/সিরিজ—বোহেমিয়ান ঘোড়া।
সমালোচক পুরস্কার: সেরা অভিনেতা—মোশাররফ করিম (২ষ), সেরা অভিনেত্রী—তমা মির্জা (আমলনামা), চলচ্চিত্র/নাটক/সিরিজের সেরা পরিচালক—নুহাশ হুমায়ূন (২ষ), সেরা চলচ্চিত্র/নাটক/সিরিজ—ফেউ, সেরা চিত্রগ্রাহক—জোয়াহের মুসাভির জ্যোতি ও আবদুল মামুন (২ষ), সেরা মেকআপ আর্টিস্ট—মো. ইমন হোসেন ও স্বর্ণা ভৌমিক (২ষ), সেরা সম্পাদনা—ফুয়াদ সৌরভ (২ষ), সেরা চিত্রনাট্য—নুহাশ হুমায়ূন ও গুলতেকিন খান (২ষ), সেরা শিল্প নির্দেশক—রাইনির বর্ষণ (২ষ), সেরা পোশাক পরিকল্পনাকারী—এডিলা ফরিদ তুরিন (২ষ), সেরা আবহসংগীত—রুসলান রহমান (২ষ), সেরা শব্দ পরিকল্পনা—রাশেদ সাহা, সজীব রঞ্জন বিশ্বাস ও রশীদ শরীফ শোয়েব (২ষ)।
সংগীত/গান: সেরা কণ্ঠশিল্পী—মাহতিম শাকিব ও সিঁথি সাহা (প্রেমের জখম, ঘুমপরী), সেরা সংগীত পরিচালক—জাহিদ নিরব (প্রেমের জখম, ঘুমপরী), সেরা গীতিকার—জাহিদ প্রীতম (প্রেমের জখম, ঘুমপরী), ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেরা সংগীত—ঈশান মজুমদার (গুলবাহার)।
ব্যক্তিগত কনটেন্ট: তথ্যবিনোদন/পডকাস্ট বিভাগে সেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর—সামিরস্ক্যান, ভ্রমণ/খাবার ও রেসিপি বিভাগে সেরা কনটেন্ট ক্রিয়েটর—নাদির অন দ্য গো, বহুমুখী কনটেন্ট ক্রিয়েটর (জনপ্রিয় ও সমালোচক নির্বাচন)—সুনেরাহ তাসনিম ও সৈয়দা রাশাদ ইমাম তন্ময়, পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ড (দর্শকপ্রিয়তা পুরস্কার)—দাগি।