
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আড়ালে পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে পাহাড়। তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, বিশুদ্ধ বাতাসের ভারসাম্য রক্ষা এবং বৈচিত্র্যময় বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের আবাসস্থল হিসেবে পাহাড় পৃথিবীর পরিবেশব্যবস্থার এক অপরিহার্য অংশ। তাই আধুনিক যুগে পাহাড়কে কেবল ভ্রমণপিপাসুদের গন্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো, বর্তমানে পাহাড়ের স্বাতন্ত্র্য ও সৌন্দর্য গুরুতর হুমকির মুখে। অনিয়ন্ত্রিত ও অপরিকল্পিত পর্যটনের নামে পাহাড়ের গায়ে প্রতিনিয়ত আঁচড় কাটা হচ্ছে। পাহাড়ি পথে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিক ও পলিথিন বর্জ্য, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন এবং বাণিজ্যিক স্বার্থে যত্রতত্র পাহাড় কাটার প্রবণতা প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাচ্ছে। যে পাহাড়ে আমরা স্বস্তি খুঁজতে যাই, সেই পাহাড়কেই আমরা প্রতিনিয়ত দূষিত ও বিপন্ন করে তুলছি।
পাহাড়ের রূপ তখনই অর্থপূর্ণ হবে, যখন তার সুরক্ষায় আমরা সচেতন হব। পর্যটনশিল্পকে সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বা ইকো-ট্যুরিজমের ওপর জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি। পাহাড়ের বুকে পা রাখার আগে আমাদের মনে রাখতে হবে—প্রকৃতি থেকে আমরা কেবল স্মৃতি আর মানসিক প্রশান্তি কুড়িয়ে নেব; আর বদলে রেখে আসব কেবল আমাদের পায়ের ছাপ, কোনো বর্জ্য নয়।
পাহাড় তার আপন মহিমায় যুগ যুগ ধরে দাঁড়িয়ে আছে এবং থাকবে। কিন্তু সেই পাহাড়ের স্নিগ্ধতা ও সৌন্দর্য আগামী প্রজন্মের জন্য টিকিয়ে রাখার দায়ভার আমাদের সবার। পাহাড়কে ধ্বংস করে নয়, বরং পাহাড়ের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে প্রকৃতির এই অনন্য উপহারকে রক্ষা করাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।