
মৎস্যবন্দর মহিপুর বাজারে প্রায় দুই কেজি ওজনের একটি ইলিশ মাছ ধরা পড়েছে। মাছটি ৩ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।
জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর পায়রা বন্দরের শেষ বয়ার কাছে এফবি জুনাইদ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলারে ইলিশটি ধরা পড়ে। পরে মহিপুরের মায়ের দোয়া আড়তে মাছটি বিক্রির জন্য আনা হয়। মাছটি ৩ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে কিনে নেন সৌরভ নামে এক ক্রেতা।
বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, বড় আকারের ইলিশের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বরাবরই বেশি। বিশেষ করে দুই কেজি বা তার কাছাকাছি ওজনের ইলিশ বাজারে এলে তা দেখতে এবং কিনতে ক্রেতাদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ দেখা যায়।
স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী কাওসার বলেন, ‘বড় আকারের ইলিশ বাজারে খুব বেশি দেখা যায় না। মাছটি দেখতে ক্রেতাদের মধ্যে বেশ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। শেষ পর্যন্ত সৌরভ ৩ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে মাছটি কিনে নিয়েছেন।’
মৎস্য গবেষকদের মতে, সমুদ্রে পর্যাপ্ত খাবার ও অনুকূল পরিবেশ পেলে ইলিশ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়া সামুদ্রিক ইলিশের প্রজনন ও বৃদ্ধির ধারাবাহিকতার একটি সম্ভাব্য ইঙ্গিত হতে পারে। তবে এর মাধ্যমে সামগ্রিক মৎস্যসম্পদের অবস্থা নির্ধারণ করা যায় না; এজন্য নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, ‘দুই কেজির কাছাকাছি ওজনের ইলিশ পাওয়া নিঃসন্দেহে বড় আকারের মাছের উপস্থিতির বিষয়টি তুলে ধরে। তবে এ ধরনের মাছের প্রাচুর্য বা সামগ্রিক মৎস্যসম্পদের অবস্থা নির্ধারণে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।’
কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী বলেন, ‘বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়া জেলেদের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি ইলিশের উৎপাদন ও বৃদ্ধির বিষয়টি পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। ইলিশের প্রজনন ও সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা এবং মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনার নিয়ম যথাযথভাবে মেনে চলা জরুরি।’