
কাতারের একটি এলএনজি ট্যাংকার উপসাগরে চলাচলের সময় 'অজ্ঞাত বস্তুর' আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি (নাকিলাত)। শুক্রবার সন্ধ্যায় আল মায়েদা নামের এই ট্যাংকারটিতে হামলা হয়। কোম্পানির পক্ষ থেকে রোববার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় জাহাজের কোনো ক্রু সদস্য আহত হননি এবং পরিবেশগত কোনো ক্ষতিরও রিপোর্ট নেই। কাতার স্টক এক্সচেঞ্জে প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জাহাজটি বর্তমানে 'নিরাপদ ও সচল' অবস্থায় রয়েছে এবং ঘটনার প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামলার 'তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার' জানিয়েছে। দোহা এটিকে 'সমুদ্রপথে চলাচলের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ একটি বিপজ্জনক কাজ' হিসেবে উল্লেখ করেছে।
মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের 'বেপরোয়া ও দায়িত্বহীন কাজ' আঞ্চলিক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তারা জানিয়েছে, ঘটনার পরিস্থিতি উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। কাতার তাদের সম্পত্তি রক্ষা ও স্বার্থ সুরক্ষায় 'প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করে' বলে জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, কাতার গ্যাস ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি কাতারের বন্দর ও টার্মিনালে টাগিং এবং সামুদ্রিক সহায়তা সেবা প্রদান করে থাকে।
আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) এবং যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্সের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১২০টিরও বেশি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, যুদ্ধের শুরুতেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় এবং তাদের অনুমতি ছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারী জাহাজগুলোকে 'ধ্বংসের' মুখে পড়তে হবে বলে বারবার সতর্ক করেছে। জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরগুলোতে পুনরায় অবরোধ আরোপ করার পর থেকে হামলার ঘটনা বেড়েছে। অক্টোবর মাসে অন্তত ২৯টি জাহাজে হামলা হয়েছে, যা যুদ্ধের সবচেয়ে খারাপ মাস হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে; এর আগে মার্চে ২০টি হামলার রেকর্ড ছিল।