
রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞার কারণে জব্দ করা রুশ ধনকুবের আন্দ্রে ইগোরেভিচ মেলনিচেঙ্কোর বিশাল সেলিং ইয়ট 'এ' ইতালির ত্রিয়েস্তে বন্দরে পড়ে আছে দীর্ঘ চার বছর ধরে। এই ইয়টটি রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তায় ইতালির করদাতাদের প্রতিদিন প্রায় ৩০ হাজার ডলার বা বছরে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ডলার ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ত্রিয়েস্তের মেয়র রবার্তো দিপিয়াজ্জা।
প্রায় ৬০ কোটি ডলার মূল্যের ৪৬৮ ফুট দীর্ঘ এই ইয়টটি ২০২২ সালের মার্চে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ত্রিয়েস্তে ছিল। তখন ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর নিষেধাজ্ঞা জারি হলে এটি জব্দ করা হয়। ফিলিপ স্টার্ক ডিজাইন করা এই ইয়টটিকে স্থানীয়রা 'বিশ্বের কুৎসিত ইয়ট' বলে অভিহিত করেছেন।
ইতালির আইন অনুযায়ী, জব্দ করা জাহাজকে মরিচা ধরতে বা ডুবে যেতে দেওয়া যাবে না; এটি রক্ষণাবেক্ষণ করতে হবে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে মেলনিচেঙ্কোকে এই খরচ ফেরত দিতে হবে। তবে মেয়র দিপিয়াজ্জা বলেছেন, নতুন ইয়ট কেনাই তার জন্য সস্তা হবে।
মেলনিচেঙ্কো ২০২২ সালের গ্রীষ্মে ইয়টটি জব্দের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ করেন এই যুক্তিতে যে এটি তার মালিকানাধীন নয়, বরং তার স্ত্রীর ট্রাস্টের অধীন ভ্যালা সেলস কোম্পানির। মামলাটি রোমের আদালত থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোর্ট অব জাস্টিসে গেলে ২০২৫ সালে আদালত রায় দেয় যে ইতালির এটি জব্দ রাখার অধিকার রয়েছে এবং রক্ষণাবেক্ষণের বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।
শুধু 'এ' নয়, ইতালির টাস্কানির মারিনা ডি কারারায় জব্দ করা ৭০ কোটি ডলার মূল্যের সুপারইয়ট 'শেহেরজাদে'-ও করদাতাদের অর্থে রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে। ছয় ডেকের ৪৬৫ ফুট দীর্ঘ এই ইয়টটি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বলে দাবি করেছেন বিরোধী নেতা আলেক্সি নাভালনি। জব্দের পর থেকে টাস্কানির করদাতারা এর ক্রু, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে ১ কোটি ৫০ লাখ ডলারের বেশি ব্যয় করেছেন বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
এছাড়া পুতিনের ঘনিষ্ঠ আলেক্সি মর্দাশভের ২১০ ফুটের 'লেডি এম' ইম্পেরিয়ায় জব্দ করা হয়েছে, যাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ লাখ ডলার ব্যয় হয়েছে। জেনাডি তিমচেঙ্কোর ১২৬ ফুটের 'লেনা'ও কাছেই রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ইতালিই একমাত্র দেশ নয়; জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেনও জব্দ করা রুশ ইয়ট রক্ষণাবেক্ষণে অর্থ ব্যয় করছে। তবে মন্টিনিগ্রোর মতো কিছু দেশ আইনগত বাধ্যবাধকতা না থাকায় জব্দ করা ইয়ট রক্ষণাবেক্ষণ করছে না। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রুশ ধনকুবেরদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।