
ইউক্রেনকে প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ অনুমোদন দেয় বলে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করেছেন যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো পৌঁছাতে “কয়েক বছর” সময় লাগতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৫০০টি পিএসি-৩ এমএসই ইন্টারসেপ্টর বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটি বর্তমানে ব্যবহৃত প্যাট্রিয়টের সবচেয়ে উন্নত সংস্করণ এবং আগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সক্ষম অল্প কয়েকটি অস্ত্রের একটি। তবে বিজ্ঞপ্তিতে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কখন ইউক্রেনে পৌঁছাবে সে বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
জেলেনস্কি এক্স-এ লেখেন, “আমরা আমাদের মার্কিন অংশীদারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি যেন প্রকৃত বিপদ ও প্রয়োজনের সময় পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহারের সমাধান খুঁজে বের করা হয়।” তিনি ওয়াশিংটনের প্রতি বিদ্যমান মজুত থেকে অস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান যাতে শীতকালে ইউক্রেন সহায়তা পায়।
কিয়েভ এ প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার অব্যাহত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করে। কিন্তু সিএনএন-এর আগের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ মাসের শুরুতে ইউক্রেনের সরবরাহ ফুরিয়ে গিয়েছিল।
জেলেনস্কি বলেন, “আমরা আমাদের মার্কিন অংশীদারদের প্রতি মাসে ১০০টি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর হারে শীতকালীন সহায়তা প্যাকেজ দেওয়ার অনুরোধ করেছি। ৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র আগামী কয়েক মাস আমাদের আকাশ রক্ষার জন্য যথেষ্ট হবে – ঠিক যখন আলোচনায় ইউক্রেনের শক্তিশালী অবস্থান থাকা এবং রাশিয়ার ইউক্রেনীয় শহর ও সম্প্রদায়ের জীবন ধ্বংস করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা উত্তেজনার পর এ অনুমোদন এল। এ মাসের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রুশ ডিজেল বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে রপ্তানির অনুমতি দিয়ে একটি চুক্তি ঘোষণা করেন এবং রুশ জীবাশ্ম জ্বালানি বিক্রয় সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন।
ট্রাম্প ইউক্রেনের রুশ শোধনাগারে হামলার কারণে কিয়েভকে গোয়েন্দা তথ্য দেওয়া বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছিলেন এবং ইউক্রেনের স্টারশিল্ড স্যাটেলাইট সিস্টেমে প্রবেশাধিকার কিছু সময়ের জন্য সীমিত ছিল, যা গত সপ্তাহে পুনরুদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার রুশ উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক রুশ বার্তা সংস্থা টাসকে বলেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন তিনটি রুশ তেল শোধনাগার ও একটি গ্যাস-রাসায়নিক কমপ্লেক্সে হামলা চালিয়েছে। একই দিন জেলেনস্কি মস্কোর বিরুদ্ধে ইউক্রেনের অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ করেন এবং বলেন, রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পোলতাভা অঞ্চলের ক্রেমেনচুকে তেল শোধনাগার অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে।
এদিকে শুক্রবারের বিক্রয় ঘোষণায় ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্রের কোনো যন্ত্রাংশ উৎপাদনের বিষয়ে তথাকথিত “অফসেট চুক্তি”র সম্ভাবনা খোলা রাখা হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, ইউক্রেন ও প্যাট্রিয়ট নির্মাতা প্রতিরক্ষা সংস্থা লকহিড মার্টিনের মধ্যে এমন কোনো চুক্তির বিষয়ে তারা অবগত নন, তবে বিষয়টি কিয়েভ ও লকহিডের মধ্যে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত জুলাইয়ে তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে ইউক্রেন নিজস্ব প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স পাবে, যা ইরান যুদ্ধ ও ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক চাহিদার কারণে সৃষ্ট গোলাবারুদ সংকটের মধ্যে মার্কিন উৎপাদন লাইনে চাপ কমাতে পারে। তবে ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা নির্মাণে কয়েক বছর লাগতে পারে এবং ট্রাম্প ওই পদক্ষেপ থেকে সরে এসেছেন বলে মনে হচ্ছে।