
ইসরায়েলে অনুষ্ঠিত হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ парламент নির্বাচন। গত ৭ অক্টোবর ২০২৩-এ হামাসের হামলার পর এটিই প্রথম নির্বাচন, যা দেশের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণ করবে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৭টা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলে।
প্রায় ৭৩ লাখ ইসরায়েলি ভোট দেওয়ার যোগ্য, যার মধ্যে ১২ লাখ ফিলিস্তিনি নাগরিকও রয়েছেন। তবে বিদেশে বসবাসকারী ইসরায়েলিরা ভোট দিতে পারেননি, কারণ দেশটিতে সাধারণ ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা নেই। কেবল কূটনীতিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা ২০ অক্টোবর বিদেশে অবস্থিত ইসরায়েলি দূতাবাসে ভোট দিয়েছেন।
নির্বাচনের শেষে টেলিভিশন চ্যানেলগুলো এক্সিট পোল প্রকাশ করবে, তবে স্পষ্ট ফলাফল পেতে কয়েকদিন বা সপ্তাহও লেগে যেতে পারে। সেন্ট্রাল ইলেকশন কমিটির ওয়েবসাইটে ভোট শেষ হওয়ার পরপরই ফলাফল লাইভ দেখা যাবে। চূড়ান্ত ভোট গণনা শুক্রবারের মধ্যে প্রত্যাশিত এবং আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশিত হবে ৪ নভেম্বর।
ইসরায়েলের নির্বাচনী ব্যবস্থা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক, যেখানে ভোটাররা ব্যক্তিগত প্রার্থী নয়, বরং দলকে ভোট দেন। ১২০ সদস্যের নেসেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ৬১ আসন। কোনো দলকে নেসেটে প্রবেশ করতে হলে ন্যূনতম ৩.২৫ শতাংশ ভোট পেতে হবে। প্রায় ডজনখানেক দলের থ্রেশহোল্ড অতিক্রমের সম্ভাবনা রয়েছে, তাই চূড়ান্ত ফলাফল ও আসন বণ্টনে সময় লাগবে।
শুক্রবার প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট এবং প্রাক্তন সামরিক প্রধান গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হচ্ছে। হারেৎজের মতে, চ্যানেল ১১, ১২ ও ১৩-এর গড় পূর্বাভাস অনুযায়ী নেতানিয়াহুর জোট ৫০টি এবং আইজেনকটের জোট ৫৪টি আসন পেতে পারে।
চূড়ান্ত গণনা শেষে রাষ্ট্রপতি আইজ্যাক হারজোগ দলীয় নেতাদের সাথে কথা বলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এমন প্রার্থীকে মনোনীত করবেন, যার সরকার গঠনের সর্বোত্তম সম্ভাবনা রয়েছে। মনোনীত ব্যক্তিকে ৪২ দিনের মধ্যে সরকার গঠন করতে হবে। ইসরায়েলে এখন পর্যন্ত কোনো একক দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, তাই জোট সরকার গঠনের জন্য দলগুলোর মধ্যে দরকষাকষি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে।
যদি কোনো সরকার গঠিত না হয়, তবে নেতানিয়াহুর বর্তমান মন্ত্রিসভা তত্ত্বাবধায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এর আগে, সর্বাধিক ভোট পাওয়া দল ছোট দলগুলোর সমর্থন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠন বা ক্ষমতা ভাগাভাগির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পদে পালাবদলের বিকল্প বেছে নিতে পারে। সব আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচন ডাকতে হবে।