
অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেব্রনে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার ইসরায়েলি বুলডোজারগুলো বিনা নোটিশে বেশ কয়েকটি কারখানা গুঁড়িয়ে দেয়। এতে শত শত কোটি শেকেলের ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
শুক্রবার সকালে হেব্রনের পশ্চিম প্রবেশপথে দুজন ফিলিস্তিনির গুলিতে দুজন ইসরায়েলি সেনা নিহত হন। এই ঘটনার পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হেব্রনজুড়ে বড় আকারের সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন।
সুফিয়ান আল-কাওয়াসমি নামের এক ব্যবসায়ী জানান, তার পারিবারিক কারখানাটি ৫০ বছর পুরনো ছিল। পরে তারা একটি মার্বেল কারখানাও খোলেন। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ জীবিকা নির্বাহ করতেন।
আল-কাওয়াসমি জানান, ১,৩০০ বর্গমিটার জমির ওপর গড়া তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস ধ্বংস করা হয়েছে। তার আনুমানিক ক্ষতি ৬ কোটি শেকেল (প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার)।
হেব্রন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির তথ্য অনুযায়ী, হেব্রন ফিলিস্তিনি অর্থনীতির মূল স্তম্ভ। এটি ফিলিস্তিনের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৪২ শতাংশে অবদান রাখে। এখানে ২৩ হাজারের বেশি অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যার মধ্যে ৫ হাজারেরও বেশি শিল্প ও কারিগরি প্রতিষ্ঠান প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিককে কর্মসংস্থান দেয়।
হেব্রন চেম্বার অব কমার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট আদনান আল-নাতশা জানান, ক্ষতির সঠিক পরিমাণ এখনও নির্ণয় করা যায়নি। তবে ক্ষতি কয়েক মিলিয়ন ডলার ছাড়াবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, আল-জালাদা এলাকার সবজি বিক্রেতা ইব্রাহিম আহমারো জানান, শুক্রবার সামরিক যানবাহন হঠাৎ করে এলাকায় ঢুকে পড়লে সেনারা তাকে দোকান ছাড়তে বাধ্য করে। রেফ্রিজারেটর চালু করার বা গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সুযোগও তাকে দেওয়া হয়নি। কয়েক দিন পর ফিরে এসে তিনি দেখেন সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। তার একা ক্ষতি হয়েছে ৫০ হাজার শেকেলেরও (প্রায় ১৬ হাজার ২০০ ডলার) বেশি।
অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ আলী ওয়েইউই বলেন, ইসরায়েলি অবরোধের কারণে পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। যদি অভিযান এক-দুই দিনে শেষ হয় তবে অর্থনীতি দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কিন্তু যদি ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয় তবে বড় সমস্যা তৈরি হবে।
তিনি আরও জানান, যানবাহন খোলস, যন্ত্রাংশ ও টাইলসের দোকান ধ্বংসের ফলে ৭ থেকে ৮ কোটি শেকেল (প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ থেকে ২ কোটি ৬০ লাখ ডলার) ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া কয়েক ডজন যানবাহন জব্দ করা হয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ধ্বংসযজ্ঞকে সম্মিলিত শাস্তি হিসেবে নিন্দা জানিয়েছে। ইসরায়েলি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ অবশ্য দাবি করেছেন, এটি ‘প্রতিরোধ সৃষ্টি ও মূল্য আদায়ের’ জন্য করা হয়েছে।