
ময়মনসিংহের ভালুকায় ফেসবুক লাইভে সরকারের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করায় নারী ব্যবসায়ী সাথী আক্তারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। সোমবার তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে রোববার রাতে বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করেন।
গ্রেপ্তার সাথী আক্তারের (৩০) ভালুকা উপজেলার খাদিজা প্যালেস মার্কেটে 'সাথী বিউটি পারলার' নামে একটি পার্লার রয়েছে। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা আমজাদ আলীর মেয়ে।
রোববার বেলা দুইটার দিকে 'সাথী মেকওভার' নামের ফেসবুক আইডি থেকে দুটি লাইভ করেন সাথী আক্তার। ৫ মিনিট ২২ সেকেন্ড ও ৮ মিনিট ৮ সেকেন্ডের ওই দুই ভিডিওতে তিনি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ফেসবুক লাইভে তিনি বলেন, 'বিএনপি সরকারকে ভোট দিয়া আজকে ভুক্তভোগী।'
ভিডিওতে সাথী আক্তারকে বলতে শোনা যায়, তিনি প্রায় ১৪ বছর ধরে ব্যবসা করছেন। কিন্তু এ বছর একের পর এক চুরির ঘটনায় তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। গত মাসে তাঁর একটি দোকান থেকে এসির তার চুরি হয়। রোববার এসে দেখেন, তাঁর দুটি শোরুমের বিদ্যুতের তার এবং একটি শোরুমের এসির তার কেটে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। আশপাশের আরও কয়েকটি দোকানের তারও চুরি হয়েছে। একপর্যায়ে বিএনপি সরকারকে ভোট দেওয়ার কথা উল্লেখ করে নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘেরাও করে বিচার দাবি করেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইব্রাহিম খলিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, বিএনপিকে নিয়ে কটূক্তি করায় এলাকার দলীয় নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারীকে প্রতিহত করতে চেয়েছিলেন। খবর পেয়ে তাঁরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিএনপির নেতা-কর্মীরা জড়ো হওয়ার পর রোববার রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ সাথী আক্তারকে হেফাজতে নেয়।
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম আজ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ওই নারীর ফেসবুক লাইভের পুরো ভিডিও তিনি চারবার পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে সরকারবিরোধী কোনো বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনামূলক কিছু পাননি। এ ধরনের বক্তব্য তাঁর বাক্স্বাধীনতার মধ্যে পড়ে। পুরো ভিডিও না দেখে গুজব থেকে ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে।
ওসি বলেন, ভিডিও প্রচারের পর মার্কেটের কয়েকজন ব্যবসায়ী কথা বলতে গেলে তাঁদের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করেন ওই নারী। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ কারণে ওই নারীকে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারা মূলত পুলিশের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। কোনো ব্যক্তি আমলযোগ্য অপরাধ সংঘটনের পরিকল্পনা করছেন বলে পুলিশের সন্দেহ হলে সেই অপরাধ প্রতিরোধের জন্য পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে। এ ক্ষেত্রে পুলিশই বাদী হয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেয়।
ময়মনসিংহ আদালতের পুলিশ পরিদর্শক পি এস এম মোস্তাছিনুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাজিদুল ইসলামের আদালতে আজ বেলা সাড়ে তিনটার দিকে শুনানি হয়। আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী জামিনের আবেদন করেননি। পরে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।