
তাইওয়ান জানিয়েছে, তারা ১৬টি চীনা কোস্টগার্ড, গবেষণা ও মাছ ধরার জাহাজকে প্রতিহত ও বিতাড়িত করেছে। এই জাহাজগুলো একযোগে 'সামুদ্রিক হয়রানি' অভিযানে জড়িত ছিল বলে তাইওয়ানের দাবি।
রবিবার তাইওয়ানের কোস্টগার্ড এক বিবৃতিতে জানায়, তাইওয়ানের মূল দ্বীপ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত বিতর্কিত দ্বীপ প্রতাস (দোংশা নামেও পরিচিত) এর আশপাশে 'অস্বাভাবিকভাবে বেশি' সংখ্যক চীনা জাহাজ সমন্বিত অভিযানে অংশ নেয়।
এই চীনা জাহাজগুলোর মধ্যে চারটি মাছ ধরার নৌকা ছিল, যেগুলো 'একযোগে অভিযান' পরিচালনা করে, যা কোস্টগার্ড 'হাইব্রিড যুদ্ধ' হিসেবে অভিহিত করেছে।
তাইওয়ানের কোস্টগার্ড জানায়, তাদের জাহাজগুলো 'তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে হুমকি কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় করেছে' এবং বেইজিংয়ের বিরুদ্ধে 'তাইওয়ান প্রণালীতে একতরফাভাবে স্থিতাবস্থা পরিবর্তনের চেষ্টা' এবং 'এখতিয়ারের মিথ্যা ধারণা দেওয়ার' অভিযোগ করেছে।
কিছু জাহাজ তাইওয়ানের নিষিদ্ধ জলসীমায় প্রবেশ করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
বেইজিং তাইওয়ান ও প্রতাসকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং আশপাশের জলসীমার ওপর এখতিয়ার দাবি করে, যা তাইপেই প্রত্যাখ্যান করে। চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে পুনর্নিয়ন্ত্রণে নিতে বলপ্রয়োগের হুমকি দিয়ে আসছে।
গত ১ অক্টোবর একটি ঘটনায়, তাইওয়ানের কোস্টগার্ড তাইওয়ান ও মূল ভূখণ্ড চীনের মধ্যবর্তী প্রতাস দ্বীপের কাছে একটি চীনা বিনোদনমূলক মাছ ধরার জাহাজের দিকে পানি ছুড়েছিল, যা বেইজিং নিজের বলে দাবি করে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে চীন তাইওয়ানের ওপর তার সামুদ্রিক চাপ বাড়িয়েছে। তাইওয়ানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে চীন তাইওয়ানের মূল দ্বীপের চারপাশে রেকর্ড ২৪৪টি কোস্টগার্ড, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও অন্যান্য জাহাজ মোতায়েন করেছিল, যেখানে গত বছরের একই মাসে ছিল মাত্র ৫৮টি।
আগস্টের প্রথম ২১ দিনে ১৫২টি জাহাজ শনাক্ত করা হয়; এর মধ্যে বেশিরভাগই ছিল চীনা কোস্টগার্ডের, তবে মাছ ধরার নৌকা ও গবেষণা জাহাজও ছিল।
চীন প্রায় প্রতিদিনই তাইওয়ানের চারপাশে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করে, তবে সেগুলো আলাদাভাবে গণনা করা হয়।