
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক বছরে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়ে ৩.৭% হয়েছে। আগস্টে এই হার ছিল ৩.৪%। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়াই মূলত এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ।
মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিএলএস) জানিয়েছে, শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই জ্বালানির দাম ৯.১% বেড়েছে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি। বছরে গাড়ির জ্বালানির দাম বেড়েছে ৩৪.২%। সামগ্রিক জ্বালানি মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ২০.৪%।
খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আছে। সেপ্টেম্বরে খাদ্যের দাম অপরিবর্তিত ছিল এবং বছরে এই খাতে মূল্যস্ফীতি ২.৫%। খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে হিসাব করা কোর মূল্যস্ফীতি ২.৬%।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব অন্যান্য খাতে যেমন খাদ্যে ছড়িয়ে পড়বে কি না, তা মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ফেডের মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ২%।
মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের পরপরই সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ঘোষণা করেছে, ২০২৭ সালে বয়স্ক, বেঁচে থাকা নির্ভরশীল এবং প্রতিবন্ধকতা বীমা সুবিধা ৩.৬% বাড়বে। এই বৃদ্ধির ফলে গড় অবসর সুবিধা মাসে ৭৫ ডলার বাড়বে। এই সমন্বয় জানুয়ারি থেকে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ মানুষের জন্য কার্যকর হবে, আর ৭২ লাখ Supplemental Security Income গ্রহীতার জন্য ৩১ ডিসেম্বর থেকে বর্ধিত অর্থ প্রদান শুরু হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর বিশ্বের অধিকাংশ বাণিজ্য অংশীদারের ওপর শুল্ক আরোপ করেছেন। সুপ্রিম কোর্ট ফেব্রুয়ারিতে বেশিরভাগ অতিরিক্ত বৈশ্বিক শুল্ক বাতিল করলেও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ১০% বৈশ্বিক শুল্ক ঘোষণা করেন। নিউ ইয়র্ক ফেডের গবেষণা অনুযায়ী, এই উচ্চ শুল্ক আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলছে।
উল্লেখ্য, কোভিড মহামারি এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর ২০২২ সালের শুরুতে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেলে মূল্যস্ফীতি প্রায় ৯% পর্যন্ত পৌঁছেছিল। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি ফেডের কাঙ্ক্ষিত ২% লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হলেও অতীতের তুলনায় অনেক কম।